সিলেটে স্কুলের ৬০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, আড়ালের চেষ্টার কথাও উঠছে
সিলেটে একটি স্কুলের ৬০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে অভিযোগটি আড়াল করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তহবিল নিয়ে এমন অভিযোগ সামনে আসায় স্থানীয়ভাবে প্রশ্ন উঠেছে, এত বড় অঙ্কের অর্থ কীভাবে এবং কার মাধ্যমে সরানো হলো, আর কেন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হবে।
অভিযোগ অনুযায়ী, স্কুলের তহবিল থেকে ৬০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। স্কুলের মতো প্রতিষ্ঠানের অর্থ আসে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি উৎস থেকে, এবং সেই অর্থ ব্যয় হওয়ার কথা শিক্ষার্থীদের পাঠদান, অবকাঠামো ও প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়নে। ফলে তহবিলের অর্থ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ সব সময়ই গুরুতর হিসেবে বিবেচিত হয়।
অভিযোগের দ্বিতীয় অংশটি আরও উদ্বেগজনক। বলা হচ্ছে, অর্থ আত্মসাতের ঘটনাটি প্রকাশ্যে না এনে আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে। কোনো অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর তা তদন্তের মুখোমুখি না করে চাপা দেওয়ার চেষ্টা হলে প্রতিষ্ঠানের ভেতরের জবাবদিহি নিয়েই বড় প্রশ্ন তৈরি হয়।
এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে কোন স্কুলের তহবিল থেকে এই অর্থ সরানো হয়েছে, কারা এই অভিযোগের মুখে রয়েছেন এবং অর্থটি কোন সময়ে ও কোন খাত দেখিয়ে তোলা হয়েছে—সেসব বিস্তারিত জানা যায়নি। অভিযোগটি কে বা কারা তুলেছেন, তাও স্পষ্ট নয়।
তবে অভিযোগের অঙ্কটি ছোট নয়। ৬০ লাখ টাকা একটি স্কুলের জন্য বড় বাজেট; এই পরিমাণ অর্থ দিয়ে শ্রেণিকক্ষ মেরামত, শিক্ষা উপকরণ কেনা কিংবা শিক্ষার্থীদের নানা সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো সম্ভব। সেই অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সত্য হলে তার সরাসরি ক্ষতি গিয়ে পড়বে শিক্ষার্থীদের ওপর।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সাধারণত হিসাব নিরীক্ষা, ব্যাংক লেনদেনের নথি ও ভাউচার যাচাইয়ের মাধ্যমে যাচাই করা যায়। এই ঘটনাতেও নিরপেক্ষ তদন্ত হলে অর্থ সরানোর পথ ও দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা।
সিলেট অঞ্চলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর তহবিল ব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে এমনিতেই নানা প্রশ্ন থাকে। একটি স্কুলের বিরুদ্ধে এত বড় অঙ্কের আত্মসাতের অভিযোগ সেই আলোচনাকে আবার সামনে এনেছে। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থেই অভিযোগটির সত্যতা দ্রুত যাচাই জরুরি বলে মনে করছেন অনেকে।
এখন দেখার বিষয়, কর্তৃপক্ষ অভিযোগটি আমলে নিয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করে কি না। তদন্ত শুরু হলে স্কুলটির নাম, অভিযুক্তদের পরিচয় এবং অর্থ ফেরত আনার সম্ভাবনাসহ পুরো চিত্রটি স্পষ্ট হবে। তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী এ বিষয়ে পরবর্তী তথ্য জানা যাবে।


