কবি ও সাংবাদিক রথো রাফি আর নেই, আশুগঞ্জে হবে দাফন
কবি ও সাংবাদিক রথো রাফি আর নেই। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫১ বছর। তার মৃত্যুতে দেশের সাংবাদিকতা ও সাহিত্যাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
রথো রাফির ভাই এহতেশাম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তিন দিন আগে শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসা চলার মধ্যেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। অবস্থা সংকটাপন্ন হলে তাকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়।
আইসিইউতে চিকিৎসার পরও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় একপর্যায়ে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। চিকিৎসকদের সব চেষ্টা সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার রাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ভাইয়ের ভাষ্যে, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চিকিৎসকরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন, কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
রথো রাফির মরদেহ তার জন্মস্থান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলায় নেওয়া হবে। সেখানেই পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। রাজধানীতে মৃত্যু হলেও শেষ ঠিকানা হবে তার নিজ এলাকাতেই।
রথো রাফির জন্ম ১৯৭৫ সালের ৩১ মার্চ। সেই হিসাবে ৫১ বছর বয়সে তার জীবনাবসান ঘটল। অকাল এই মৃত্যুতে সহকর্মী ও সাহিত্যাঙ্গনের মানুষের মধ্যে গভীর শোক বিরাজ করছে।
পেশাগত জীবনে রথো রাফি ছিলেন সাংবাদিক। তবে তার মূল পরিচয় ছিল কবি হিসেবে—সাহিত্যাঙ্গনে তিনি কবি রথো রাফি নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন। সাংবাদিকতা জীবনে তিনি দৈনিক সমকাল ও ভোরের কাগজে কাজ করেছেন। সংবাদমাধ্যমের ব্যস্ত পেশাজীবনের পাশাপাশি তিনি কবিতা চর্চা চালিয়ে গেছেন ধারাবাহিকভাবে।
তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল রসায়নশাস্ত্রে। কিন্তু তার মনন গড়ে উঠেছিল কবিতা ও অনুবাদের জগতে। বিজ্ঞান পড়া একজন মানুষের সাহিত্যের জগতে এভাবে নিজেকে গড়ে তোলা তার সৃজনশীল জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হিসেবে পরিচিতজনরা উল্লেখ করে থাকেন।
কবি হিসেবে রথো রাফির আত্মপ্রকাশ গত শতকের নব্বইয়ের দশকে। সেই সময় থেকেই তিনি কবিতা লিখে আসছিলেন। দীর্ঘ কবিতাজীবনে কবিতায় স্বতন্ত্র ভাষা ও চিন্তার জন্য তিনি সাহিত্যাঙ্গনে নিজস্ব পরিচিতি তৈরি করেছিলেন।
তার প্রথম ও একমাত্র কাব্যগ্রন্থ ‘অক্ষর ও বালির পৃথিবী’ প্রকাশিত হয় ২০২০ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায়। দীর্ঘদিনের কবিতা চর্চার পর প্রকাশিত এই বইটিই তার কাব্যিক জীবনের একমাত্র গ্রন্থাকার সাক্ষ্য হয়ে থাকল। একটি মাত্র কাব্যগ্রন্থ দিয়েই তিনি পাঠক ও সমালোচকদের কাছে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছিলেন।
সহকর্মী ও পরিচিতজনদের কাছে রথো রাফি ছিলেন একই সঙ্গে একজন সংবাদকর্মী ও একজন নিবেদিতপ্রাণ কবি। সাংবাদিকতার পেশাগত চাপের মধ্যেও কবিতা ও অনুবাদ নিয়ে তার আগ্রহ কখনো কমেনি। তার মৃত্যুতে সাংবাদিকতা ও সাহিত্যজগতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মরদেহ আশুগঞ্জে নেওয়ার পর পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সব আয়োজন সম্পন্ন করা হবে। কবি ও সাংবাদিক রথো রাফির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে স্বজন, সহকর্মী ও সাহিত্যপ্রেমীদের অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ৫১ বছরে থেমে যাওয়া এই জীবন রেখে গেল একটি কাব্যগ্রন্থ, দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবন এবং অনেকের স্মৃতিতে একজন স্বতন্ত্র কণ্ঠের কবিকে।






