সুনামগঞ্জে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগে দুজনকে কারাদণ্ড
সিলেট বিভাগের হাওর-জেলা সুনামগঞ্জে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে দুজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জেলায় নদী ও হাওর তীর থেকে অনুমোদনহীনভাবে বালু তোলার বিরুদ্ধে প্রশাসনের চলমান অভিযানের অংশ হিসেবেই এই সাজা হয়েছে বলে প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানা গেছে।
সাজাপ্রাপ্ত দুজনের নাম-পরিচয়, কারাদণ্ডের মেয়াদ এবং জেলার ঠিক কোন এলাকা থেকে তারা বালু তুলছিলেন—এসব বিস্তারিত তথ্য প্রাথমিক প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়নি। ফলে এই মামলার পূর্ণ বিবরণ জানতে প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক তথ্যের অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ জেলা হাওর, নদী আর জলাভূমির জেলা। বর্ষায় বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়, আর শুষ্ক মৌসুমে নদীর চর ও তীরে জমে ওঠে বালু। নির্মাণকাজে বালুর চাহিদা বাড়ায় প্রতি বছরই জেলার বিভিন্ন নদী থেকে বৈধ ইজারার পাশাপাশি অবৈধভাবেও বালু তোলার অভিযোগ ওঠে।
অবৈধ বালু উত্তোলন শুধু সরকারি রাজস্ব ফাঁকির বিষয় নয়; এর সঙ্গে নদীর গতি-প্রকৃতি বদলে যাওয়া, তীর ভাঙন, হাওরের বাঁধ ও ফসলি জমির ক্ষতি এবং জলজ পরিবেশ ধ্বংসের প্রশ্নও সরাসরি জড়িত। সুনামগঞ্জের মতো ভাঙনপ্রবণ এলাকায় অনিয়ন্ত্রিত বালু তোলা বর্ষায় ক্ষতির মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলেই স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ থাকে।
বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী নির্ধারিত বালুমহাল ছাড়া বা ইজারার শর্ত ভেঙে বালু তোলা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সময়ে সময়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও অভিযানের মাধ্যমে অবৈধ উত্তোলনকারীদের জরিমানা ও কারাদণ্ড দিয়ে থাকে, যন্ত্রপাতি ও নৌযান জব্দের ঘটনাও ঘটে।
এবারের কারাদণ্ডের ঘটনা সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। দুজনকে সাজা দেওয়ার মধ্য দিয়ে প্রশাসন বার্তা দিতে চেয়েছে যে, হাওর-জেলায় অবৈধ বালু ব্যবসা কোনোভাবেই ছাড় পাবে না—এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
তবে স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ, মাঠপর্যায়ে ছোট উত্তোলনকারীরা ধরা পড়লেও অবৈধ বালু ব্যবসার পেছনের বড় চক্র অনেক সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। ফলে শুধু অভিযান নয়, বালুমহাল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও নিয়মিত নজরদারি না বাড়ালে এই প্রবণতা পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন হবে।
হাওর এলাকার কৃষকদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বোরো মৌসুমের ফসল রক্ষায় হাওরের বাঁধ অত্যন্ত সংবেদনশীল; নদী ও খাল থেকে যত্রতত্র বালু তুললে বাঁধের ভিত দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই প্রতি শুষ্ক মৌসুমেই অবৈধ উত্তোলন বন্ধে স্থানীয়ভাবে দাবি জোরালো হয়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সাজার বিস্তারিত জানানো হলে সাজাপ্রাপ্তদের পরিচয় ও মামলার পূর্ণ চিত্র পাওয়া যাবে। ততক্ষণ পর্যন্ত এটুকুই নিশ্চিত—অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগে সুনামগঞ্জে দুজনকে কারাদণ্ড ভোগ করতে হচ্ছে।
সিলেট বিভাগের অন্য জেলাগুলোতেও নদী থেকে অবৈধ বালু ও পাথর তোলা নিয়ে একই ধরনের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সুনামগঞ্জের এই সাজা বিভাগজুড়ে অবৈধ উত্তোলনকারীদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবেই দেখছেন অনেকে।
এখন দেখার বিষয়, এই সাজার পর জেলায় অবৈধ বালু উত্তোলন কতটা কমে এবং প্রশাসনের অভিযান কতটা ধারাবাহিক থাকে। হাওরের পরিবেশ ও নদীর তীর রক্ষায় সেই ধারাবাহিকতাই সবচেয়ে জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


