নবম পে-স্কেলে বেতন পাবেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও: ডিসেম্বরেই গেজেটের চেষ্টা, জানাল অর্থ মন্ত্রণালয়
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য বড় সুখবর—তারাও পাবেন নবম জাতীয় পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল নিশ্চিত করেছেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও নতুন পে-স্কেলের আওতায় আসছেন; আর অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলছে, চলতি ডিসেম্বরের মধ্যেই পৃথক গেজেট জারি করে এই সুবিধা চালুর চেষ্টা চলছে।
চলতি বছরেই সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম বেতনকাঠামো ঘোষণা করেছে সরকার। এর পর থেকেই প্রশ্ন ছিল—বেসরকারি স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার এমপিওভুক্ত লাখ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী এই সুবিধা পাবেন কি না। এবার সেই প্রশ্নের জবাব মিলল ইতিবাচকভাবে, যদিও ঠিক কবে থেকে নতুন কাঠামোয় বেতন মিলবে, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখনো নির্দিষ্ট তারিখ জানানো হয়নি।
মাউশির মহাপরিচালক বলেছেন, এক্ষেত্রে হয়তো কিছুটা দেরি হতে পারে, তবে শিক্ষকেরা নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন পাবেনই। এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা যাতে দ্রুত নবম জাতীয় পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন পান, সে বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চলছে। প্রক্রিয়াগত কারণে কিছুটা দেরি হলেও শিক্ষক-কর্মচারীরা নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন থেকে বঞ্চিত হবেন না বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।
একাধিক সূত্রের দাবি, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পৃথক গেজেট জারির মাধ্যমে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও মাউশির সূত্রের তথ্যে এই প্রক্রিয়া এখন আরও জোরালো হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, চলতি ডিসেম্বরের মধ্যেই এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য এই সুবিধা চালুর চেষ্টা চলছে। ডিসেম্বরে সম্ভব না হলে আগামী বছরের জানুয়ারিতে তা বাস্তবায়ন করা হতে পারে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র আরও জানায়, ২০১৫ সালে অষ্টম পে-স্কেল বাস্তবায়নের সময়ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য পৃথক গেজেট দ্রুত জারি করা হয়েছিল। তবে তাদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে প্রায় ছয় মাস সময় লেগেছিল। ফলে এবারও কিছুটা সময় লাগতে পারে; তবে অষ্টম পে-স্কেলের মতো এবার এত দীর্ঘ সময় লাগবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
হিসাব অনুযায়ী, নতুন পে-স্কেলের আওতায় এমপিওভুক্ত ৬ লাখ ২ হাজার ৩৫৯ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে আনতে অতিরিক্ত ১৩ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে বেতন-ভাতা বাবদ ব্যয় হবে ১২ হাজার ৫১৮ কোটি টাকা; বাকি অর্থ প্রয়োজন হবে পেনশন খাতে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি চাকরিজীবীদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতনকাঠামোর দাবি জানিয়ে আসছেন। নবম পে-স্কেল ঘোষণার পর থেকেই তাদের মধ্যে নতুন বেতনকাঠামো নিয়ে প্রত্যাশা ও অনিশ্চয়তা—দুটোই কাজ করছিল। মাউশি ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ বক্তব্যে সেই অনিশ্চয়তা অনেকটাই কেটে গেছে।
এমপিও (মান্থলি পে অর্ডার) ব্যবস্থায় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতনের একটি বড় অংশ সরকার অনুদান হিসেবে দেয়। ফলে জাতীয় পে-স্কেল বদলালে পৃথক গেজেট ছাড়া তাদের বেতন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়ে না—এবারও সেই পৃথক গেজেটের দিকেই তাকিয়ে আছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা।
শিক্ষক সংগঠনগুলোর প্রত্যাশা, শুধু ঘোষণা নয়, গেজেট জারি ও বাস্তবায়নের রোডম্যাপও দ্রুত স্পষ্ট হোক। বিশেষ করে কার্যকরের তারিখ—নতুন স্কেল সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে যে তারিখ থেকে কার্যকর হয়েছে, এমপিওভুক্তদের ক্ষেত্রেও বকেয়াসহ সেই সুবিধা মিলবে কি না—সে প্রশ্নের জবাব গেজেটেই মিলবে।
সব মিলিয়ে, ডিসেম্বর কিংবা জানুয়ারি—সময়ের প্রশ্ন যাই হোক, ছয় লাখের বেশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর নবম পে-স্কেল পাওয়া এখন প্রায় নিশ্চিত। এখন অপেক্ষা শুধু পৃথক গেজেটের, যার মধ্য দিয়েই নতুন বেতনকাঠামো পৌঁছে যাবে দেশের প্রতিটি এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায়।





