সাজেকে অবরোধকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর দুই ঘণ্টা গুলিবিনিময়, আহত অন্তত ৯ সদস্য; সেনা সহায়তায় ফিরলেন ৩ হাজার পর্যটক
রাঙামাটির সাজেকের উজোবাজারে অবরোধকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে গুলিবিনিময় হয়েছে। এতে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সদস্যসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন বলে পুলিশ সুপার জানিয়েছেন; পরবর্তী খবরে নিরাপত্তা বাহিনীর আহত সদস্যের সংখ্যা নয়জন বলা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আটকা পড়া সব পর্যটক নিরাপদে সাজেক ছেড়েছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাঙামাটি শহরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার আব্দুর রকিব। তিনি জানান, সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী উজোবাজারে অবরোধকারীদের সড়ক ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানায়। এ সময় অবরোধকারীরা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে সেনাবাহিনীর তিন থেকে চারজন সদস্য এবং পুলিশের দুজন সদস্য আহত হন।
পুলিশ সুপার আরও জানান, পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হলে বাহিনীর সদস্যরাও পাল্টা গুলি চালান। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত থেমে থেমে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে এই গুলিবিনিময় চলে।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং উজোবাজারের নিয়ন্ত্রণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে রয়েছে। তিনি বলেন, সব পর্যটক নিরাপদে সাজেক ছেড়েছেন। পুরো ঘটনা তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে অবরোধের কারণে সাজেকে আটকা পড়া প্রায় তিন হাজার পর্যটক সেনাবাহিনীর সহায়তায় খাগড়াছড়ি পৌঁছেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। পাহাড়ের জনপ্রিয় এই পর্যটন এলাকায় ছুটি কাটাতে গিয়ে হঠাৎ অবরোধ ও গুলিবিনিময়ের মধ্যে পড়ে যাওয়া পর্যটকদের মধ্যে দিনভর আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করে; নিরাপত্তা বাহিনীর সহায়তায় তাঁরা নিরাপদে ফিরতে পারায় স্বস্তি মিলেছে।
সাজেক দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য; রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার এই পাহাড়ি এলাকায় সারা বছরই পর্যটকদের ভিড় লেগে থাকে। এমন একটি এলাকায় অবরোধকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র সংঘর্ষের ঘটনা পর্যটন নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
ঘটনাটি রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাজেককে কেন্দ্র করে কী হচ্ছে, তা নিয়ে 공개ভাবে প্রশ্ন তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর। পাহাড়ের পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর এই প্রশ্ন ঘটনাটিকে জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
পুলিশ সুপারের বক্তব্য অনুযায়ী, অবরোধকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় পর্যটকদের চলাচলের পথ খুলে দেওয়ার অনুরোধ থেকে। সড়ক ছাড়তে অস্বীকৃতি, তারপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ এবং শেষ পর্যন্ত গুলিবিনিময় — ঘটনাক্রমে সাজেকের শান্ত পাহাড়ি জনপদ এক অশান্ত দুপুর দেখল।
আহত নিরাপত্তা সদস্যদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি যাতে আবার উত্তপ্ত না হয়, সেজন্য এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর অবস্থান জোরদার রয়েছে।
সাজেকে যাতায়াতের একমাত্র সড়কপথটি অবরোধের মুখে পড়লে পর্যটকদের মতো স্থানীয় বাসিন্দারাও বিপাকে পড়েন। দিনের ব্যবসা-বাণিজ্য ও চলাচল থমকে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসায় এবং পর্যটকরা নিরাপদে ফিরে যাওয়ায় ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরছে বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।
পাহাড়ের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এমনিতেই সংবেদনশীল; তার ওপর পর্যটন মৌসুমে এমন সংঘর্ষের ঘটনা পুরো অঞ্চলের পর্যটনশিল্পের জন্য উদ্বেগের। ব্যবসায়ী ও পর্যটনসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, নিরাপত্তা নিয়ে আস্থা ফেরানো না গেলে সাজেকমুখী পর্যটকদের সংখ্যায় এর প্রভাব পড়তে পারে।
এখন সবার নজর তদন্তের দিকে। কারা এই অবরোধ ডেকেছিল, কেন নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হলো এবং এই সংঘর্ষের পেছনে কারা রয়েছে — এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে তদন্তে। পুলিশ সুপার স্পষ্ট করে বলেছেন, জড়িত কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়; তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






