ঝিনাইদহে আধিপত্যের লড়াইয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, নারীসহ আহত ৭
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় সামাজিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে উপজেলার পুরাতন বাখরবা গ্রামে ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে পুরাতন বাখরবা গ্রামের সামাজিক মাতুব্বর আনু মণ্ডল ও বকুল বিশ্বাসের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। আজ সকালে গরুতে জমির ধান খাওয়ার প্রতিবাদ করায় আনু মণ্ডলের সমর্থক প্রবাসী মনি বিশ্বাসের স্ত্রী শামেলা খাতুনকে মারধর করে বকুল বিশ্বাসের লোকজন।
এরই জেরে আনু মণ্ডল ও বকুল বিশ্বাসের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে আহত হয় অন্তত সাতজন। সংঘর্ষের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়।
শৈলকুপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্যা বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আনু মণ্ডল ও বকুল বিশ্বাস — দুজনের সমর্থকদের মধ্যে এলাকার প্রভাব বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে টানাপোড়েন চলছিল। ছোটখাটো বিষয় নিয়েও প্রায়ই উত্তেজনা তৈরি হতো দুই পক্ষের মধ্যে।
বৃহস্পতিবার সকালে গরু জমির ধান খাওয়া নিয়ে শুরু হওয়া বাগবিতণ্ডাই পরে বড় সংঘর্ষে রূপ নেয়। শামেলা খাতুনকে মারধরের খবর পৌঁছাতেই দুই পক্ষের লোকজন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি হয়।
এ ধরনের সংঘর্ষ গ্রামীণ এলাকায় প্রায়ই প্রাণঘাতী রূপ নেয়। দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে আহত হওয়ার ঘটনা বাংলাদেশে অস্বাভাবিক নয় — বিশেষ করে আধিপত্য, জমি বা গ্রাম্য রাজনীতির বিরোধকে কেন্দ্র করে এমন সংঘাত ঘটে থাকে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে টহল জোরদার করা হয়েছে এবং দুই পক্ষের মধ্যে ফের সংঘর্ষ এড়াতে নজরদারি চলছে।
আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হলে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা দায়েরের খবর পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, আহতদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুই পক্ষের দায়ীদের শনাক্ত করার কাজ চলছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, গ্রামে আধিপত্যের এই সংস্কৃতি বন্ধ না হলে এমন সংঘর্ষ বারবার ঘটবে। প্রশাসনকে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সার্বিক পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এবং পুলিশি পাহারা অব্যাহত রয়েছে।






