আগামী ১০ বছরেও শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নেই: স্পিকার হাফিজ উদ্দিন
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে মন্তব্য করে জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘আমার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে মনে হয়, আগামী ১০ বছরেও শেখ হাসিনার ফেরার সম্ভাবনা নেই।’
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে ভোলা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। ভোলা সফরের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার ও স্থানীয় মানুষের গ্যাসের দাবিসহ আরও কয়েকটি বিষয়েও কথা বলেন তিনি।
স্পিকার বলেন, ‘আওয়ামী লীগ তাদের শাসনামলে এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করেছিল, যেখানে সমাজের সৎ, যোগ্য ও নিরপেক্ষ মানুষের পক্ষে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা সম্ভব ছিল না। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার আমূল সংস্কার প্রয়োজন।’
তার মতে, অর্থশালী বা বিত্তবান না হলেও একজন ব্যক্তির সমাজে জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা থাকতে পারে। এমন ব্যক্তিদেরও নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে।
এ জন্য নির্বাচন কমিশনকে এমন একটি কার্যকর পদ্ধতি নির্ধারণ করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ সহজে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন—বলেন স্পিকার। অর্থাৎ অর্থের প্রভাব কমিয়ে সাধারণ ও জনপ্রিয় ব্যক্তিদের জন্য প্রতিযোগিতার পথ খোলা রাখাই তার প্রস্তাবের মূল কথা।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, ‘নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়া অত্যন্ত জরুরি।’ তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৭ বছর দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ ছিল না।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে স্পিকারের এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ। নির্বাচনী পরিবেশ ফিরিয়ে আনা ও ভোটের প্রতি মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধারই যে এখন বড় চ্যালেঞ্জ, তার কথায় সেই ইঙ্গিতই ফুটে উঠেছে।
ভোলায় প্রাকৃতিক গ্যাসের সম্ভাবনা ও স্থানীয় মানুষের গ্যাসপ্রাপ্তির দাবি প্রসঙ্গেও কথা বলেন তিনি। স্পিকার বলেন, ‘ভোলায় পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত রয়েছে। দেশের বর্তমান গ্যাসের মজুতের সঙ্গে তুলনা করলে ভোলায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস রয়েছে বলে ধারণা করা যায়। এ জেলায় আরও গ্যাসের মজুত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘ভোলার সাধারণ মানুষের গ্যাসের প্রয়োজন রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ভোলাবাসী এ দাবি জানিয়ে আসছেন। এটি তাদের ন্যায্য অধিকার।’
এ বিষয়ে জ্বালানি মন্ত্রীর সঙ্গে তিনি কথা বলবেন বলে জানান। ভোলার উন্নয়ন, নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার এবং স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের গ্যাসসংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
একই সফরে আগের দিন বুধবার ভোলার তজুমদ্দিনে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও স্পিকার নির্বাচন ও নেতৃত্ব নিয়ে কড়া মন্তব্য করেছিলেন। ধারাবাহিকভাবে দুই দিনের বক্তব্যে নির্বাচনী সংস্কারের দাবিটিই তার আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।
সব মিলিয়ে ভোলা সার্কিট হাউসে স্পিকারের বক্তব্যে তিনটি বার্তা স্পষ্ট—শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিয়ে তার নিজের রাজনৈতিক মূল্যায়ন, নির্বাচনী ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের তাগিদ এবং ভোলাবাসীর গ্যাসের দাবির প্রতি সমর্থন। এই বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলতে পারে।




