যুক্তরাজ্যে ডেটাসেন্টার নিয়ে বিরোধ এড়াতে সরকারের হাতে মাত্র এক বছর, সতর্ক করল এআই প্রতিষ্ঠানগুলো
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্তরাজ্যের মন্ত্রীদের বলেছে, ডেটাসেন্টার নিয়ে জনবিরোধ ঠেকাতে তাদের হাতে প্রায় ১২ মাস সময় আছে; তা না হলে যুক্তরাষ্ট্রের ধাঁচের বিক্ষোভ সেখানে নির্মাণকাজকেই হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
এনভিডিয়া, মাইক্রোসফট ও সিসকোসহ এআই অবকাঠামো প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি জোট লেবার সরকারের কাছে দেওয়া এক আবেদনে এই সতর্কবার্তা তুলে ধরেছে। জোটটির নাম সভরেইন এআই লিডারশিপ (সেইল) টাস্কফোর্স।
পরপর শুষ্ক গ্রীষ্ম আর বাড়তে থাকা বিদ্যুৎ বিলের কারণে এআই মডেল প্রশিক্ষণ ও পরিচালনায় ব্যবহৃত বিশাল কম্পিউটার গুদামগুলো—ডেটাসেন্টার—নিয়ে জনমনে খুঁটিয়ে দেখার প্রবণতা বাড়ছে বলে আবেদনে বলা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে ডেটাসেন্টারবিরোধী তৎপরতা বাড়ার প্রেক্ষাপটে জোটটি মন্ত্রীদের কাছে এমন একটি ‘সমঝোতা’ তৈরির আহ্বান জানিয়েছে, যাতে ডেটাসেন্টার আয়োজন করে স্থানীয় সম্প্রদায় কীভাবে উপকৃত হবে তা পরিষ্কারভাবে দেখানো হয়। এর মধ্যে আয়োজক কাউন্সিলগুলোকে বেশি কর রাজস্ব ধরে রাখতে দেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে।
মাইক্রোসফট যুক্তরাজ্যের এআই অবকাঠামোতে ৩ হাজার কোটি ডলার (২ হাজার ২০০ কোটি পাউন্ড) বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি লন্ডনের অ্যাক্টনে একটি ডেটাসেন্টার তৈরি করেছে, নিউপোর্টে আরেকটি নির্মাণাধীন রয়েছে।
মাইক্রোসফট আরও কয়েকটি ডেটাসেন্টার তৈরি করতে চায় এবং অর্থনীতিতে এআইয়ের সম্ভাব্য সুফল ও ডেটাসেন্টার নিয়ে জনবিরোধের মধ্যে ভারসাম্যের প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রীসহ স্থানীয় ও জাতীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সেইল জোট বলেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রে সংগঠিত স্থানীয় বিরোধিতা সম্পূর্ণ অনুমোদিত ডেটাসেন্টার প্রকল্পও থামিয়ে দিয়েছে, এমনকি প্রবৃদ্ধিবান্ধব হিসেবে পরিচিত রাজ্যগুলোতেও স্থগিতাদেশ ঘোষণা করা হয়েছে।’
জোটটি আরও বলেছে, ‘ওইসব জায়গার প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, এআই নিজে কেবল উপরিতলের উদ্বেগ; তার চেয়ে গভীরে রয়েছে করপোরেট ও সরকারি প্রতিশ্রুতির প্রতি অবিশ্বাস, আটকে যাওয়া সম্পদ নিয়ে ভয় এবং বিদ্যুৎ খরচ নিয়ে শঙ্কা। একই যুক্তি এখানেও আসতে শুরু করেছে।’
জোটের ভাষায়, ‘ব্রিটেনের সামনে একটি সুযোগের জানালা আছে—আমাদের ধারণা, প্রায় ১২ মাস—যার মধ্যে এমন একটি সমঝোতা গড়ে তোলা যায়, যা ওই ধারা এখানে শিকড় গাড়ার আগেই জনসম্মতি অর্জন করবে।’
টাস্কফোর্স সরকারের কাছে কাউন্সিল ও মেয়রদের জন্য একটি পরিষ্কার কাঠামো তৈরির আহ্বান জানিয়েছে, যেখানে স্থানীয় সুফলের জন্য সুপারিশকৃত শর্তাবলি থাকবে। এর মধ্যে স্থানের আকার অনুযায়ী একটি নির্দেশক অবদান—আর্থিক কিংবা সুযোগ-সুবিধার আকারে—অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
এআই ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় ডেটাসেন্টার নির্মাণের বিরোধিতাও জোর পাচ্ছে। একটি গ্রীষ্ম পেরিয়ে আসার পর এই উদ্বেগ আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
ফলে আগামী এক বছরে যুক্তরাজ্য সরকার স্থানীয় সুফলের বিশ্বাসযোগ্য কাঠামো দাঁড় করাতে পারে কি না, সেটাই সেখানে ডেটাসেন্টার সম্প্রসারণের ভবিষ্যৎ অনেকটা নির্ধারণ করবে। প্রতিষ্ঠানগুলোর সতর্কবার্তা সেই সময়সীমাকেই সামনে এনে দিল।





