…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › শিক্ষা › খবর
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — আবদুল কুদ্দুস, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ
শিক্ষা

১৯তম বিজেএস প্রিলিমিনারি ৩১ অক্টোবর: শেষ ৭২ ঘণ্টা আর পরীক্ষার হলে করণীয় নিয়ে পরীক্ষার্থীদের জন্য পূর্ণ গাইড

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) প্রিলিমিনারি পরীক্ষা দেশের সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলোর একটি। এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয় দেশের সেরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে; তাই কোনো পরীক্ষার্থীকেই দুর্বল প্রতিপক্ষ ভাবার সুযোগ নেই। এবার ১৯তম বিজেএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার তারিখ ৩১ অক্টোবর।

এমন পরীক্ষায় শুধু পড়াশোনাই যথেষ্ট নয়, দরকার কৌশলী পড়াশোনা—কোন বিষয়ে কখন মনোযোগ দিতে হবে এবং কোন বিষয়ের কতটুকু বাদ দেওয়া যাবে, তা ভালোভাবে জানা। পরীক্ষার আগের শেষ ৭২ ঘণ্টা, অর্থাৎ ২৮ থেকে ৩০ অক্টোবর—এই তিন দিনের প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত করণীয় তুলে ধরা হয়েছে পরীক্ষার্থীদের জন্য।

প্রথম দুই দিন, ২৮ ও ২৯ অক্টোবর, অর্থাৎ ৪৮ ঘণ্টায় আইনের ছয়টি গ্রুপ ভালোভাবে রিভিশন দিতে হবে। পাশাপাশি সাধারণ অংশের ইংরেজি, বাংলা, সাহিত্য, বিজ্ঞান ও সাম্প্রতিক বিষয়াবলিতে (কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স) চোখ বুলাতে হবে। এই সময়ে নতুন করে মডেল টেস্ট সমাধান করার দরকার নেই বলে পরামর্শে বলা হয়েছে।

৩০ তারিখ সকালে শুরু করে সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত আবার শুধু আইনের ছয়টি গ্রুপে চোখ বুলাতে হবে। কারণ, রিভিশন ভালো না হলে পরীক্ষার হলে গিয়ে সবকিছু উল্টাপাল্টা মনে হতে পারে।

৩০ তারিখ সন্ধ্যা থেকে ঘুমানোর আগ পর্যন্ত শুধু ঐচ্ছিক ১ ও ২ রিভিশন দিতে হবে। রাত দশটার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়তে হবে এবং যতদূর সম্ভব গভীর ঘুম নিশ্চিত করতে হবে—পরীক্ষার আগের রাতের পর্যাপ্ত ঘুম ভালো পরীক্ষার অন্যতম সহায়ক।

পরীক্ষার দিন ফজরের সময় ঘুম থেকে উঠে নামাজ আদায় ও আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনার চেষ্টা করতে বলা হয়েছে। সকালে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে, কারণ পানি, অক্সিজেন ও গ্লুকোজ হলো মস্তিষ্ক ঠিকমতো কাজ করার কাঁচামাল। অনেকেই প্রস্রাবের ভয়ে পানি পান করেন না—এটা একদমই ঠিক নয়; প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রে যথেষ্ট ওয়াশরুমের ব্যবস্থা থাকে।

সকাল থেকে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত আবার ঐচ্ছিক ১ ও ২ এবং শুধু ইংরেজি সাহিত্য ও কারেন্ট অ্যাফেয়ার্সে চোখ বুলিয়ে যেতে হবে। ঐচ্ছিক ১ ও ২-এর ওপর বারবার গুরুত্ব দেওয়ার কারণ পরীক্ষার্থী পরীক্ষার হলেই বুঝতে পারবেন বলে গাইডে উল্লেখ করা হয়েছে।

যাতায়াতের ক্ষেত্রে নিজের অবস্থান থেকে পরীক্ষাকেন্দ্রের দূরত্ব ও রাস্তার যানজট বিবেচনায় নিয়ে সময় হাতে রেখে আগে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে হবে। যাওয়ার সময় বেশি বই-খাতা নেওয়ার দরকার নেই; অ্যাডমিট কার্ড ও কলম ঠিক আছে কি না যাচাই করে নিতে হবে। কেউ কেন্দ্রের সামনে পড়তে চাইলে শুধু ঐচ্ছিক ১ ও ২ এবং কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স সঙ্গে নিয়ে বের হতে বলা হয়েছে।

কেন্দ্রে পৌঁছানোর পর যথাসম্ভব ভিড় এড়িয়ে একা, ফাঁকা জায়গায় থাকার চেষ্টা করতে হবে এবং কারও প্রশ্ন বা কথায় মনোযোগ দেওয়া যাবে না—এসব অযথা আতঙ্ক তৈরি করে এবং আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দিতে পারে। কেন্দ্রে প্রবেশের পর সবার আগে নিজের আসন কোন ভবনে, কোন কক্ষে, তা খুঁজে বের করতে হবে।

প্রশ্ন হাতে পাওয়ার পর করণীয়ও ধাপে ধাপে বলা হয়েছে: যথাযথ সতর্কতার সঙ্গে প্রশ্ন থেকে ওএমআর শিট আলাদা করতে হবে, যেন ছিঁড়ে বা ফেটে না যায়; এরপর ওএমআর শিটে খুব সতর্কতার সঙ্গে নিজের রোল নম্বরের বৃত্ত ভরাট করতে হবে।

এরপর প্রশ্ন ১ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে ১০০ পর্যন্ত যেতে হবে। যেটা পারা যাবে, তা সঙ্গে সঙ্গে ওএমআর শিটে দাগাতে হবে। যে প্রশ্নে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত না হলেও ৬০-৭০ শতাংশ নিশ্চয়তা আছে, সেটিতে প্রশ্নপত্রে গোল দাগ দিয়ে রাখতে হবে, যাতে পরে সহজে খুঁজে পাওয়া যায়। প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় প্রশ্নে লেখা বা দাগ দেওয়া বৈধ এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রশ্নেই অঙ্ক করা যায়।

যেসব ভুল এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে: প্রশ্ন পাওয়ার পর ১ থেকে শুরু না করে পছন্দের গণিত, বিজ্ঞান বা আইন খুঁজে খুঁজে বের করলে অনেক সময় নষ্ট হবে—পরীক্ষার হলের এক সেকেন্ডেরও অনেক দাম। আবার অনেকে প্রথমে পুরো প্রশ্ন একবার পড়ে ছোট চিহ্ন দিয়ে রাখেন, পরে তা খুঁজতে গিয়ে দ্বিতীয়বার একই কাজে সময় নষ্ট হয়। সঠিক নিয়ম হলো—পর্যায়ক্রমে যেটা পারা যাবে তা সঙ্গে সঙ্গে দাগানো, যেটা একদমই পারা যাবে না তা এড়িয়ে যাওয়া, আর বিভ্রান্তির প্রশ্নে গোল দাগ দিয়ে রাখা।

পাসের জন্য কতটা দাগানো নিরাপদ, তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন—এটি ব্যক্তিভেদে ভিন্ন এবং আপেক্ষিক বিষয়। তবে প্রতিটি ভুলের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা যাওয়ায় সাধারণত ৭০ থেকে ৮০টির মধ্যে দাগানো অনেকটা নিরাপদ বলে গাইডে বলা হয়েছে। আর কেউ যদি পরীক্ষার হলে অনেক চেষ্টার পরও দেখেন ৪০-৪৫টির বেশি ঠিক দাগানো সম্ভব হচ্ছে না, তাহলে বসে না থেকে ১০০টিই দাগিয়ে আসার কৌশলের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে বার্তাটি একটাই—শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে নতুন পড়া নয়, পরিকল্পিত রিভিশন, পর্যাপ্ত ঘুম আর হলের ভেতরের শৃঙ্খলাই বিজেএস প্রিলিমিনারিতে এগিয়ে রাখবে পরীক্ষার্থীকে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — জাকির হোসেন, সম্ভাব্য ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী, ৭ নং ওয়ার্ড, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন

শিক্ষা বিভাগের আরও খবর

শিক্ষা

এমপিওভুক্তির তারিখ থেকে উচ্চতর গ্রেড চান মাধ্যমিক শিক্ষকেরা, দুই মাসের সময়সীমা

মাদ্রাসার শিক্ষকদের মতো এমপিওভুক্তির তারিখ থেকে চাকরির সময় গণনা করে প্রথম উচ্চতর গ্রেড দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এমপিওভুক…

শিক্ষা

একই পদ্ধতিতে পড়িয়ে ভিন্ন ফল আশা করা যাবে না, বললেন শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষকদের জন্য জরুরি বার্তা

একই পদ্ধতিতে পড়িয়ে ভিন্ন ফল আশা করা যাবে না — শিক্ষামন্ত্রী এই মন্তব্য করেছেন বলে জানিয়েছে ঢাকা পোস্ট। পাঠদানের পদ্ধতি বদলানো ছাড়া শিক্ষার ফলাফলে …

শিক্ষা

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশ্নফাঁস: মাদারীপুর থেকে সোহাগ ফকির গ্রেপ্তার, জব্দ দুটি স্মার্টফোন

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তে সোহাগ ফকির নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ ত…

শিক্ষা

পাবনায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্নে বড় অগ্রগতি: আটঘরিয়া কলেজ রূপান্তরের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে ইউজিসিকে নির্দেশ

পাবনায় একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ আরও এক ধাপ এগিয়েছে। জেলার আটঘরিয়া কৃষি মহাবিদ্যালয়কে পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যা…