…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › ভ্রমণ › খবর
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — আবদুল কুদ্দুস, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ
ভ্রমণ

মেঘের সমুদ্রের ওপরে তা শুয়া: থাইল্যান্ড-জাপানকে পেছনে ফেলে এশিয়ার সেরা উদীয়মান গন্তব্য ভিয়েতনামের পাহাড়ি জনপদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় দুই হাজার মিটার উঁচুতে পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে চারপাশের কুয়াশার চাদর ভেদ করে মনে হয়, এ যেন মাটির পৃথিবী নয়, অন্য কোনো স্বর্গরাজ্য। ঠিক পায়ের নিচেই ঘন, তুলোর মতো সাদা মেঘ ভেসে বেড়ায়, আর পাহাড়ের সবুজ চূড়াগুলো তার মাঝে এক-একটা ছোট দ্বীপ হয়ে জেগে থাকে। জায়গাটি উত্তর ভিয়েতনামের সন লা প্রদেশের শান্ত পাহাড়ি অঞ্চল তা শুয়া। এত দিন কিছুটা লোকচক্ষুর আড়ালে থাকলেও ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে এটি ছিল রোমাঞ্চকর এক নাম।

সম্প্রতি মালদ্বীপে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এ থাইল্যান্ড বা জাপানের মতো জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোকে পেছনে ফেলে দিয়েছে এই জায়গাটি। তা শুয়া অর্জন করেছে এশিয়ার সেরা উদীয়মান পর্যটনকেন্দ্রের খেতাব। আন্তর্জাতিক এই স্বীকৃতির পর দুর্গম এই পাহাড়ি জনপদের নাম এখন বিশ্বের ভ্রমণপ্রেমীদের আলোচনায় উঠে এসেছে।

ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয় থেকে প্রায় ২৪০ কিলোমিটার দূরের এই দুর্গম অঞ্চলে পৌঁছাতে সময় লাগে বেশ অনেকটা। কিন্তু পাহাড়ি সর্পিল পথ অতিক্রম করে তা শুয়ায় পৌঁছালে রাস্তার সব ক্লান্তি মুহূর্তেই উধাও হয়ে যায় পর্যটকদের। দীর্ঘ পথের ধকল পেরিয়ে যে দৃশ্য চোখে পড়ে, তা-ই এই যাত্রার সবচেয়ে বড় পুরস্কার বলে মনে করেন অনেকে।

জানুয়ারি থেকে মার্চ, এই সময়টায় তা শুয়ায় সুন্দর তুলতুলে মেঘের দেখা মেলে। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে মেঘের সমুদ্রে সূর্যের আলো পড়ে যে মায়াবী রূপ তৈরি হয়, তা দেখতেই দূরদূরান্ত থেকে পর্যটকেরা সেখানে 'ক্লাউড হান্টিং' বা মেঘ-শিকারে যান। ভোরের সেই কয়েকটি ঘণ্টাই তা শুয়ার সবচেয়ে বিখ্যাত সময়।

শুধু মেঘ নয়, তা শুয়ার প্রতিটি বাঁকেই লুকিয়ে আছে প্রকৃতির এক-একটি বিস্ময়। অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয়দের জন্য এখানে সবচেয়ে আকর্ষণীয় হলো 'ডাইনোসরস ব্যাকবোন'। ডাইনোসরের পিঠের মতো দেখতে সরু, আঁকাবাঁকা ও খাড়া পাহাড়ি পথ ধরে নিচে শত শত মিটার গভীর উপত্যকার দৃশ্য দেখে রোমাঞ্চপ্রেমীদের গা শিউরে ওঠে। এই সরু পথটিই এখন তা শুয়ার সবচেয়ে আলোচিত ট্রেকিং অভিজ্ঞতাগুলোর একটি।

যাঁরা সূর্যাস্ত দেখতে ভালোবাসেন, তাঁদের গন্তব্য হওয়া উচিত তিন কিলোমিটার দূরের উইন্ডি পিক বা দিন জিউ। সেখানে পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে শেষ বিকেলের রক্তিম আলোয় মেঘের রূপ বদল দেখা যায় এক পরম প্রশান্তিতে। ভোরের মেঘ-শিকার আর বিকেলের সূর্যাস্ত, এই দুই অভিজ্ঞতাই তা শুয়ার দিনটিকে পূর্ণ করে তোলে।

একটু উঁচুতে গেলে মিলবে দুই হাজার ১২০ মিটার উঁচুতে থাকা 'টার্টল হেড রক' বা কচ্ছপের মাথার মতো আকৃতির এক অদ্ভুত শিলাখণ্ড। সেখান থেকে পুরো পাহাড়ি উপত্যকার প্যানারোমিক দৃশ্য চোখে পড়ে। পাহাড়ের পর পাহাড় আর তার মাঝে ভেসে থাকা মেঘের স্তর, এই দৃশ্যই তা শুয়ার উচ্চতার আসল পরিচয়।

প্রকৃতিপ্রেমীদের মন ভরাবে প্রায় ১৭ হাজার ৬৫০ হেক্টর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত তা শুয়ার প্রাচীন বনাঞ্চল। এত বড় অক্ষত বনভূমি এই অঞ্চলের জীববৈচিত্র্যের ভিত্তি, আর পর্যটকদের জন্য তা প্রকৃতির একেবারে কাছাকাছি পৌঁছানোর সুযোগ।

প্রকৃতির সঙ্গে তা শুয়ার সংস্কৃতির বন্ধনও বেশ চমৎকার। পাহাড়ের ঢালে রয়েছে শতাব্দীপ্রাচীন শান তুয়েত চা-গাছ এবং স্থানীয় হমং জনগোষ্ঠীর বাস। নীল রঙের পোশাক পরা হমং কারিগরদের ঐতিহ্যবাহী তাঁত বোনা, মোম দিয়ে কাপড়ে নকশা করা এবং তাঁদের দৈনন্দিন সাধারণ জীবনযাত্রা এই অঞ্চলে নিয়ে আসে এক টুকরো আদিম ও প্রথাগত স্পর্শ।

হৈ আন বা হা লং বের মতো বাণিজ্যিক পর্যটনকেন্দ্রগুলোর চেয়ে তা শুয়া একেবারেই আলাদা। এর আসল আকর্ষণ হলো এর সাজগোজহীন রূপ। এখানে দেখা মেলে আঁকাবাঁকা পাহাড়ি রাস্তা, ভাসমান কুয়াশা ও পাহাড়ের চূড়ায় হারিয়ে যাওয়া মেঘের সমুদ্রের। শহর থেকে দূরে কোলাহলমুক্ত শান্ত পরিবেশে মেঘ ছুঁয়ে দেওয়ার অভিজ্ঞতাই পর্যটকদের টেনে আনছে।

তবে তা শুয়া ভ্রমণে সময় বাছাই জরুরি। এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাসে এ অঞ্চলে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কা থাকে। সেপ্টেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত সময়টি এ অঞ্চলে ট্রেকিংয়ের জন্য উপযুক্ত ও নিরাপদ। তাই মেঘের মৌসুম আর নিরাপদ আবহাওয়া মিলিয়ে পরিকল্পনা করলেই তা শুয়ার ভ্রমণ সবচেয়ে উপভোগ্য হবে।

এশিয়ার সেরা উদীয়মান গন্তব্যের খেতাবের পর তা শুয়ায় পর্যটকের ভিড় আরও বাড়বে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা এই পাহাড়ি জনপদ এখন বিশ্ব পর্যটনের মানচিত্রে নিজের জায়গা করে নিল, আর মেঘের সমুদ্রের সেই ভোরের দৃশ্য দেখতে এখন আরও অনেক পথ পাড়ি দেবেন ভ্রমণপ্রেমীরা।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — জাকির হোসেন, সম্ভাব্য ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী, ৭ নং ওয়ার্ড, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন

ভ্রমণ বিভাগের আরও খবর

ভ্রমণ

সাজেকে আবার পর্যটক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা: বৃহস্পতিবার বিকেলের মধ্যে ছাড়তে হবে এলাকা, ফের অনির্দিষ্টকালের অবরোধ

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালিতে পর্যটকদের ভ্রমণে আবারও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। বুধবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়…