সমাজের নিকৃষ্ট ব্যক্তিরাই এমপি-মন্ত্রী হন, সবচেয়ে দুর্নীতিবাজরা নেতৃত্বে: ভোলায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন
সমাজের নিকৃষ্ট ব্যক্তিরা সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হন, আর সবচেয়ে দুর্নীতিবাজরা নেতৃত্বে চলে আসেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বুধবার বিকেলে ভোলার তজুমদ্দিনে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তাঁর মতে, সমাজব্যবস্থাই এমন হয়ে গেছে যে ভালো লোকের নির্বাচনে দাঁড়ানোর সুযোগ নেই এবং সৎ লোকের রাজনীতি করার পরিবেশ এখনো তৈরি করা যায়নি।
স্পিকার বলেন, ইথিওপিয়ার তুলনায় আমরা কোথায় চলে গেছি, দেখুন। এখানে সবচেয়ে বড় দুর্নীতিবাজরা সমাজের বড় নেতা হয়ে গিয়েছে। এটার জন্য আমি আপনাদের দোষ দিই না। সমাজব্যবস্থাটাই এমন হয়ে গেছে, ভালো লোকের নির্বাচনে দাঁড়াবার সুযোগ নাই। সৎ লোকের রাজনীতি করার পরিবেশ আমরা সৃষ্টি করতে পারি নাই।
তবে দেশ এ রকম থাকবে না বলেও আশাবাদ জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, আওয়ামী লীগের দুঃশাসন থেকে যেহেতু আমরা মুক্ত হয়েছি, আগামী দিনে নিশ্চয়ই আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বাংলাদেশের মানুষের ওপর দয়া করবেন। দেশে একটা সুন্দর সমাজ আমরা গঠন করতে পারব।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্পিকার। অনুষ্ঠানে বিএনপি ও তাদের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আওয়ামী লীগের শাসনামলের নির্যাতনের প্রসঙ্গ টেনে স্পিকার বলেন, আয়নাঘর বলতে একটা জিনিস আছে, কেউ জানতোই না। আওয়ামী লীগ পতনের পর দেখা গেল তাদের টর্চার সেল। সেখানে বহু মানুষকে রেখে অত্যাচার-নির্যাতন করা হয়েছে। বিচারবহির্ভূতভাবে বহু মানুষকে তারা হত্যা করেছে। আওয়ামী লীগ সমাজের বিভিন্ন জায়গায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে, প্রশাসনকে এবং সামরিক বাহিনীকে নষ্ট করে দিয়েছে। অবশেষে আল্লাহর গজব তাদের ওপরে পড়েছে। দেশের মানুষ তাদের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে তাদের পতন হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে অন্যায়ভাবে রাজনৈতিকদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন ও মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে পাঠানো হয়েছে। এ অবস্থা থেকে মুক্তি চেয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা হয়েছিল। এ জন্য তিনি সদয় হয়েছেন এবং দুঃশাসনের হোতাদের দেশ থেকে বিতারিত করেছেন। আল্লাহ ছাড় দেন, একেবারে ছেড়ে দেন না। যে কারণে আওয়ামী লীগ তার দলবলসহ হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ বিদেশে রেখে দেশ ছেড়ে পলাতক হয়েছে। শেখ হাসিনা বড় গলায় বলেছিল, আওয়ামী লীগ পালায় না, এখন কোথায় তারা, প্রশ্ন তোলেন স্পিকার।
নিজের সততার উদাহরণ টেনে স্পিকার বলেন, আমি সব সময় সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে ছিলাম। আপনাদের ওপর যদি কোনো লোক জুলুম করে, জমি-ঘরবাড়ি দখল করে এবং হয়রানি করে, তাহলে আপনারা প্রথমে স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে জানাবেন। আর নেতৃবৃন্দ যদি এসব কাজ করে, তাহলে আমাকে জানাবেন। আমি ইনশাআল্লাহ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
তিনি জানান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করে তিনি এখন সাধারণ সদস্য হিসেবে আছেন এবং নিরপেক্ষভাবে সংসদ চালাচ্ছেন। তজুমদ্দিনে কোনো ধরনের অপকর্ম, মাস্তানি ও চাঁদাবাজি কাউকে করতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তজুমদ্দিন উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা মিন্টু। সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক ওমর আসাদ রিন্টু।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা বিনিময় করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।
রাজনৈতিক নেতৃত্বের মান ও দুর্নীতি নিয়ে সংসদের স্পিকারের এমন খোলামেলা মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভালো ও সৎ মানুষকে রাজনীতিতে আসার পরিবেশ তৈরি করাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ, এমন বার্তাই উঠে এসেছে তাঁর বক্তব্যে।





