চ্যালেঞ্জের কথা বলে প্রার্থীদের সমর্থন ও সরাসরি অনুদান বন্ধ করল আইপ্যাক
ইসরায়েলপন্থী রাজনৈতিক সংগঠন আইপ্যাক, অর্থাৎ আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি, বুধবার ঘোষণা করেছে তারা আর কোনো প্রার্থীকে সমর্থন জানাবে না, সরাসরি প্যাক অনুদান দেবে না কিংবা প্রচারণার জন্য নির্দিষ্ট করে অর্থ বরাদ্দ করবে না। প্রভাবশালী এই লবিং গোষ্ঠীর সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী লবিং গোষ্ঠী হিসেবে কাজ করা আইপ্যাক পাঁচ বছর আগে সরাসরি রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা শুরু করেছিল। তার পর থেকে, বিশেষ করে এই মধ্যবর্তী নির্বাচন চক্রে, আইপ্যাক ক্রমবর্ধমান প্রতিরোধের মুখে পড়েছে। গাজা ও ইরানের যুদ্ধসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাদের অবস্থান নিয়ে সমালোচনা হয়েছে।
আইপ্যাকের সমর্থন ও আর্থিক সহায়তা গ্রহণ করায় সমর্থিত প্রার্থীরাও রাজনৈতিক ডান ও বাম উভয় পক্ষ থেকে কঠিন বিরোধিতার মুখে পড়েছেন, কারণ ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নিয়ে জনমত বদলেছে। সমালোচনা সামলাতে কয়েকজন আইপ্যাক-সমর্থিত প্রার্থী বলেছেন, তারা সংগঠনটির কাছ থেকে কোনো অর্থ নেবেন না।
আইপ্যাক প্রথমে সদস্যদের কাছে পাঠানো একটি চিঠিতে পরিবর্তনগুলো ঘোষণা করে, যেখানে বলা হয়, তারা যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, সেগুলো আগামী বছরগুলোতে আরও বাড়তে থাকবে। চিঠিতে সংগঠনটি বলেছে, তারা তাদের লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রার্থীদের কাছে অর্থ পৌঁছে দেওয়া বন্ধ করবে না, বরং ব্যক্তিগত দাতাদের সংগঠিত করে তা করবে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, তারা প্রার্থীদের জন্য ব্যক্তিগত আমেরিকানদের সরাসরি ও সংগঠিত অবদান বাড়ানোকে অগ্রাধিকার দেবে — বর্তমান প্রচেষ্টা সম্প্রসারণ করে — এবং উদীয়মান রাজনৈতিক তহবিল সংগ্রহের সরঞ্জামগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার করবে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ২০২৮ সালের চক্রে ইসরায়েলপন্থী রাজনীতিতে তাদের কর্মীদের কাছ থেকে আরও শক্তিশালী অঙ্গীকার দরকার হবে। ফলে যেসব রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট ইসরায়েলের সঙ্গে আমেরিকার জোট শক্তিশালী করে এমন নীতি এগিয়ে নিচ্ছেন এবং ইসরায়েলবিরোধী আইনের বিরুদ্ধে দাঁড়াচ্ছেন, তাদের জন্য সমর্থন বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে গোষ্ঠীটি। আইপ্যাকের একজন মুখপাত্র এনপিআরের মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিক সাড়া দেননি।
ফেডারেল নির্বাচন কমিশনের নথি অনুযায়ী, আইপ্যাক ২০২৬ সালে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রার্থী ও রাজনৈতিক কমিটিগুলোকে প্রায় ২৫ মিলিয়ন ডলার দিয়েছে। এর সংশ্লিষ্ট সুপার প্যাক ইউনাইটেড ডেমোক্রেসি প্রজেক্ট প্রার্থী ও রাজনৈতিক কমিটিগুলোকে ১৩ মিলিয়ন ডলার দিয়েছে এবং স্বতন্ত্র ব্যয় হিসেবে আরও ৫৩ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছে। সামনে ইউনাইটেড ডেমোক্রেসি প্রজেক্টের ভূমিকা কী হবে, তা স্পষ্ট নয়।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে অবশ্য এর কয়েকটি স্বতন্ত্র ব্যয় মিশিগানে মার্কিন সিনেটের ডেমোক্র্যাট মনোনীত প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের বিরুদ্ধে প্রচারণায় ব্যবহার করা হচ্ছে। আইপ্যাক প্রাইমারিতেও এল-সায়েদের বিরুদ্ধে প্রচুর খরচ করেছিল, তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিনিধি হ্যালি স্টিভেন্সকে সমর্থন করে।
মিশিগান সিনেট প্রতিযোগিতা এমন কয়েকটি উচ্চ-প্রোফাইল লড়াইয়ের একটি, যেখানে আইপ্যাক ইসরায়েলপন্থী রাজনীতিকের পক্ষে কিংবা সংগঠনটির দৃষ্টিতে ইসরায়েলের প্রতি কম অনুকূল কারও বিরুদ্ধে খরচ করেছে।
এই পটভূমিতে সরাসরি সমর্থন ও অনুদান বন্ধের ঘোষণা আইপ্যাকের কৌশল বদলের ইঙ্গিত। সরাসরি নিজের নামে অর্থ দেওয়ার বদলে এখন ব্যক্তিগত দাতাদের সংগঠিত করাই হবে তাদের প্রধান পথ।
এই পরিবর্তন আগামী নির্বাচনগুলোতে প্রার্থীদের প্রচারণা ও ইসরায়েলপন্থী লবিংয়ের ধরন কীভাবে বদলায়, তা এখন দেখার বিষয়।






