আইফোনকে কেন্দ্র করে মারধরে যশোরের কিশোর স্বাধীনের মৃত্যু, পরিবারের হত্যার অভিযোগ
বিদেশে গিয়ে কর্মজীবন শুরু করার স্বপ্ন দেখেছিল ১৭ বছর বয়সী কিশোর স্বাধীন। সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই প্রাণ হারাতে হলো তাকে। পরিবারের অভিযোগ, একটি আইফোনকে কেন্দ্র করে মারধরের শিকার হয়ে স্বাধীন মারা গেছে। তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
যশোর শহরের বারান্দীপাড়া মোল্লাপাড়া এলাকার টিপু হোসেনের ছেলে স্বাধীন মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃত্যুর খবরে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পারিবারিক সূত্র জানায়, সপ্তাহখানেক আগে স্বাধীনকে একটি আইফোন কিনে দেন তার মা। পরিবারের দাবি, ওই ফোনকে কেন্দ্র করেই ঘটনার সূত্রপাত হয়।
স্বাধীনের মায়ের অভিযোগ, আইফোনের কারণে তাঁর ছেলেকে গুম করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে চুরির অপবাদ দিয়ে তাকে মারধর করা হয় বলে তিনি দাবি করেছেন।
নিহতের স্বজনদের ভাষ্য, গত রবিবার বিকেলে বাড়ি থেকে বের হন স্বাধীন। ওই দিন রাতে তাঁরা জানতে পারেন, শহরের মালোপাড়ার একটি মাঠে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে আছেন স্বাধীন। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।
শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক রাতেই স্বাধীনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর নির্দেশ দেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার বিকেলে তাঁর মৃত্যু হয়।
স্বাধীনের দাদি সেলিনা বেগমের অভিযোগ, মালোপাড়ার ওলি নামে এক নারী প্রথমে স্বাধীনকে আঘাত করেন। পরে সেখানে লোকজন জড়ো করে সংঘবদ্ধভাবে তাকে মারধর করা হয়। এতে স্বাধীন গুরুতর আহত হন বলে তিনি জানান।
স্বাধীনের বাবা টিপু হোসেন অভিযোগ করেন, ছোট কসাই, শহিদুল ও উজ্জ্বলসহ কয়েকজন পরিকল্পিতভাবে তাঁর ছেলেকে মারধর করে হত্যা করেছেন। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
যশোর কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কবির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।
এই ঘটনা সম্প্রতি ঘটে যাওয়া আরেকটি মৃত্যুর কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। সম্প্রতি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার হয়। গত ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর সনন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের নির্জন স্থানে তাঁর মরদেহ পাওয়া যায়।
ওই ঘটনায় ২১ সেপ্টেম্বর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান জানান, অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা আইফোন ছিনিয়ে নিতে তাঁকে পরিকল্পিতভাবে নির্জন পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সেই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তারের তথ্যও জানিয়েছিলেন তিনি।
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সাইফুল ইসলাম তুহিন, মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ ও মো. কামরুল হাসান। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিয়াম নামে এক কিশোরকে আটক করা হয়েছিল। দুটি ঘটনাতেই একটি ফোনকে কেন্দ্র করে প্রাণহানির অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
স্বাধীনের ক্ষেত্রে এখন ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশের অভিযানের দিকেই তাকিয়ে আছে পরিবার। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা গেলে ঘটনার পুরো চিত্র স্পষ্ট হবে বলে স্বজনদের প্রত্যাশা।





