ভারতে বিক্ষোভকারীদের ওপর ‘অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ’ বন্ধের আহ্বান জাতিসংঘের দুই ডজন বিশেষজ্ঞের, চাইলেন নিরপেক্ষ তদন্ত
ভারতের বিরোধী দল ও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে দমন-পীড়নের পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির সরকারকে ‘অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ’ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা।
মঙ্গলবার দেওয়া এক বিবৃতিতে দুই ডজন স্বতন্ত্র বিশেষজ্ঞ ভারতীয় কর্তৃপক্ষের আচরণের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, বিক্ষোভকারীরা আহত হয়েছেন এবং কেউ কেউ দুর্ব্যবহারের শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘বিক্ষোভকারীরা আহত হয়েছেন, কেউ কেউ দুর্ব্যবহারের কথা জানিয়েছেন। বিক্ষোভ ও সংশ্লিষ্ট আটকের ঘটনায় যৌন সহিংসতা এবং অন্যান্য লিঙ্গভিত্তিক নির্যাতনের খবরে বিশেষজ্ঞরা বিশেষ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।’
জাতিসংঘের এই বিশেষজ্ঞদের নিয়োগ দেয় মানবাধিকার কাউন্সিল, নির্দিষ্ট মানবাধিকার সংকট পর্যবেক্ষণ ও নথিভুক্ত করার জন্য। তবে তাঁরা সংস্থা থেকে স্বতন্ত্রভাবে কাজ করেন।
ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি নাম বাদ পড়ার পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে এই মাসে বিক্ষোভ চালিয়ে আসছে সিজেপিসহ অন্যান্য বিরোধী দল ও ছাত্র সংগঠনগুলো।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, এই বাদ পড়া অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে দরিদ্র ও গৃহহীন মানুষ এবং মুসলিমসহ জাতিগত সংখ্যালঘুদের, যাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল বিজেপিকে ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা কম।
বিজেপি ও ভারতের নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। নির্বাচন কমিশন বলেছে, তারা দ্বৈত, মৃত, স্থানান্তরিত এবং অন্যভাবে অযোগ্য ভোটারদের নাম সরাচ্ছে, এবং ভুলক্রমে বাদ পড়লে যে কেউ আপিল করতে পারবেন।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, সমাবেশগুলো অহিংস প্রকৃতির হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জসহ বলপ্রয়োগ করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে, এবং হাজারো মানুষকে বিক্ষোভে যোগ দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে।
লাঠিচার্জ বলতে বোঝায় জনতা ছত্রভঙ্গ করতে লাঠি নিয়ে পুলিশের সমন্বিত অগ্রসর হওয়া। বিশেষজ্ঞদের বিবৃতিতে এই পদ্ধতির ব্যবহারের কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা আহ্বান জানিয়েছেন, ‘আমরা কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ বন্ধ করতে, সমাবেশের ওপর সর্বব্যাপী নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে এবং বায়োমেট্রিকসহ ডিজিটাল নজরদারির অপব্যবহার ও ইন্টারনেট ব্যাহত করা থেকে বিরত থাকতে বলছি।’
ভারত অতীতে এ ধরনের সমালোচনা বারবার প্রত্যাখ্যান করেছে এবং একে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখিয়েছে। এই মাসের শুরুর দিকে সর্বশেষ বিক্ষোভের সঙ্গে জড়িত গণআটক নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় উদ্বেগ জানালেও ভারত তা একইভাবে নাকচ করেছিল।
এখন দেখার বিষয়, দুই ডজন বিশেষজ্ঞের এই যৌথ আহ্বান ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবির জবাবে ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কী অবস্থান নেয়, এবং মাঠের বিক্ষোভ পরিস্থিতিতে তার কোনো প্রভাব পড়ে কি না।





