শেষ বেলায় ভিতিনিয়া-রুইজের গোল: নাটকীয় ম্যাচে বার্সেলোনাকে ৪-২ গোলে হারাল পিএসজি, মৌসুমের প্রথম হার ফ্লিকের দলের
চ্যাম্পিয়নস লিগে দুর্দান্ত এক লড়াইয়ে বার্সেলোনাকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দিবাগত রাতে প্যারিসের পার্ক দে প্রিন্সেসে লিগ পর্বের ম্যাচে দুবার সমতায় ফিরেও শেষ পর্যন্ত হার মানতে হয়েছে স্প্যানিশ ক্লাবটিকে — মৌসুমে এটিই তাদের প্রথম পরাজয়।
এ মৌসুমে এখন পর্যন্ত লা লিগায় ৯ ম্যাচ খেলে একটিতেও হারেনি কাতালান ক্লাবটি; চ্যাম্পিয়নস লিগেও আগের দুই ম্যাচে জিতেছিল দাপটের সঙ্গে। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ১১ জয়ের ধারায় ফ্রান্সে এসেছিল তারা। কিন্তু সর্বশেষ টানা দুইবারের চ্যাম্পিয়নস লিগজয়ী পিএসজির কাছে এসে থামতে হলো সেই ধারা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণে ছিল স্বাগতিকরা। ম্যাচের বয়স ৯০ সেকেন্ড না যেতেই গোলের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল পিএসজি — খভিচা কভারাৎস্কেলিয়ার শট আঘাত করে পোস্টে। তবে ২০ মিনিটের মাথায় বড় ধাক্কা খায় তারা: হ্যামস্ট্রিং চোটে মাঠ ছাড়েন গত বছরের ব্যালন দ’রজয়ী ওসমান দেম্বেলে। তার জায়গায় নামেন ফেরান তোরেস — যিনি গ্রীষ্মেই ছেড়েছেন বার্সেলোনা। এর মধ্যে চোটে মাঠ ছাড়েন বার্সার দানি ওলমোও।
গোল আসে ৩৮ মিনিটে, লামিনে ইয়ামালের ভুল থেকে। নিজেদের অর্ধে বল হারান ইয়ামাল; বল পেয়ে দুর্দান্ত ফুটওয়ার্কে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে নিচু শটে নিচের কোণে বল জড়ান দেজিরে দুয়ে। বিরতিতে প্রাপ্যভাবেই এগিয়ে ছিল পিএসজি।
বিরতির পরপরই সমতায় ফেরে বার্সেলোনা। ৫৫ মিনিটে ফের্মিন লোপেজের ছাড়ানো বলে বক্সে ঢুকে গোল করেন তরুণ জাভি এসপার্ট — এটি তার সিনিয়র ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় গোল। এরপর কিছুক্ষণের মধ্যেই বদলি হিসেবে মাঠে নামেন রদ্রি — ২০২৪ সালের ব্যালন দ’রজয়ী, যাকে বিস্ময়করভাবে শুরুতে বেঞ্চে রাখা হয়েছিল। সাম্প্রতিক চোট কাটিয়ে শুরুর একাদশে ফিরেছিলেন রাফিনিয়া।
ম্যাচ তখন ক্রমশ উন্মুক্ত হয়ে ওঠে। তোরেসের শট পোস্টে লাগার পর ৭২ মিনিটে দুয়ের কর্নার থেকে হেডে গোল করে পিএসজিকে আবার এগিয়ে দেন লুকাস হার্নান্দেজ। নিয়মিত লেফটব্যাক নুনো মেন্দেসের অনুপস্থিতিতে ইয়ামালকে আটকাতে দলে এসেছিলেন এই ডিফেন্ডার; পিএসজির হয়ে শতাধিক ম্যাচে এটি তার মাত্র তৃতীয় গোল, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারির পর প্রথম।
তবে গোলের কিছুক্ষণ পরই হার্নান্দেজকে তুলে নেন কোচ লুইস এনরিকে, আর তার বদলি ওয়ারেন জায়ার-এমরির ভুলেই আসে বার্সার দ্বিতীয় সমতা। ৭৯ মিনিটে উঁচু বলের নিচে ধরা খেয়ে যান জায়ার-এমরি; ছুটে গিয়ে গোল করেন ইয়ামাল — মৌসুমে তার দশম গোল, আর সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এটি বার্সেলোনার মৌসুমের ৫০তম গোল।
কিন্তু সমতায় ফেরার আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি কাতালানদের। ৮১ মিনিটে বুক দিয়ে বল নামিয়ে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে দুর্দান্ত শটে পিএসজিকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন ভিতিনিয়া — গত বছরের ব্যালন দ’র তালিকায় তৃতীয় হয়েছিলেন এই পর্তুগিজ মিডফিল্ডার।
এরপর ৮৬ মিনিটে আচরাফ হাকিমির পাস থেকে গোল করে পিএসজির জয় নিশ্চিত করেন ফাবিয়ান রুইজ। শেষ পর্যন্ত ৪-২ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ফরাসি ক্লাবটি।
এই জয়ে চলতি চ্যাম্পিয়নস লিগে তিন ম্যাচে তিন জয় তুলে নিল পিএসজি — টানা তৃতীয়বারের মতো শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে তারা। লিগ ওয়ান ও চ্যাম্পিয়নস লিগ মিলিয়ে এটি তাদের টানা সপ্তম জয়; গত সপ্তাহে ম্যানচেস্টার সিটির মাঠেও ৪-২ গোলে জিতেছিল তারা। তবে জয়ের রাতে চোটে দেম্বেলের পাশাপাশি কভারাৎস্কেলিয়াকেও হারিয়েছে পিএসজি — দুই আক্রমণকারীর চোট কতটা গুরুতর, তা এখনো জানা যায়নি। রাতের আসল তারকা ছিলেন দুয়ে।
অন্যদিকে হান্সি ফ্লিকের বার্সেলোনা পেল মৌসুমে প্রথম হারের স্বাদ। তবে পরাজয়টি তাদের নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনায় বড় আঘাত করবে বলে মনে হয় না — গোলের ধারা অব্যাহত আছে তাদের। আর সামনে সপ্তাহের আরও বড় ম্যাচ: এই রবিবার ঘরের মাঠে রিয়াল মাদ্রিদকে হারাতে পারলে লা লিগায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে নয় পয়েন্টে এগিয়ে যাবে বার্সা। গত ১৩ বছরে চ্যাম্পিয়নস লিগে দুই দলের এটি ছিল ১৪তম সাক্ষাৎ — এবারের পালা গেল প্যারিসের।





