বিতর্কিত মন্তব্যের পেছনে রিপাবলিকান ‘চরমপন্থা’কে দায়ী করলেন টেক্সাসের সিনেট প্রার্থী টালারিকো
টেক্সাসের ডেমোক্র্যাট সিনেট প্রার্থী জেমস টালারিকো তাঁর অতীতের বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য রিপাবলিকানদের ‘চরমপন্থা’কে দায়ী করেছেন। ‘ঈশ্বর নন-বাইনারি’ এবং ‘জীববিজ্ঞান অনুযায়ী লিঙ্গ ছয়টি’—এমন মন্তব্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, আইনসভায় এসব বিষয়ে কথা বলতে তিনি আসেননি; সাংস্কৃতিক যুদ্ধের ইস্যুগুলো সামনে এনেছিল রিপাবলিকানরাই।
নিউইয়র্ক টাইমসের পডকাস্ট ‘দ্য ডেইলি’তে মাইকেল বারবারোর সঙ্গে মঙ্গলবারের এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন টালারিকো। তিনি টেক্সাসের বহুল আলোচিত মার্কিন সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান কেন প্যাক্সটনের বিপক্ষে লড়ছেন। ২০২১ সালে রাজ্য আইনসভায় তাঁর করা মন্তব্যগুলো নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, সে সময় চরমপন্থার বিরুদ্ধে লড়তে গিয়েই তাঁকে এসব বলতে হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে অস্টিনে রাজ্য হাউসের ফ্লোরে নারীদের খেলায় পুরুষদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করার একটি বিলের বিরোধিতা করতে গিয়ে টালারিকো বলেছিলেন, ‘ঈশ্বর নন-বাইনারি’। একই বছর টেক্সাস হাউসের জনশিক্ষা কমিটির শুনানিতে তিনি বলেছিলেন, ‘আধুনিক বিজ্ঞান স্পষ্টভাবে স্বীকার করে যে জৈবিক লিঙ্গ দুটির চেয়ে অনেক বেশি; আসলে ছয়টি।’ এই মন্তব্যগুলো এখন তাঁর নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বীদের আক্রমণের প্রধান হাতিয়ার।
টালারিকো বলেন, ‘আমাকে এমন অবস্থায় ফেলা হয়েছিল, যেখানে ওই চরমপন্থার বিরুদ্ধে লড়াই করতেই হয়েছে। লিঙ্গ বা ট্রান্স মানুষদের নিয়ে আমার মন্তব্যের কথা বলছেন—আমি আইনসভায় এসব নিয়ে কথা বলতে আসিনি। আমার প্রথম অধিবেশনে ফিরে গেলেই দেখবেন, আমি কথা বলতে চেয়েছিলাম জনশিক্ষা নিয়ে, যার জন্য আমি প্রথমে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটা বেশ বিদ্রূপাত্মক যে তারা এসব ক্লিপ কেটে এমনভাবে দেখাচ্ছে যেন আমিই এসব বিষয়ে কথা বলছিলাম। আসলে ক্যাপিটলে রিপাবলিকান চরমপন্থীরাই ট্রান্স ইস্যু নিয়ে, মানুষের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে মেতে ছিল। সেটা আমি ছিলাম না। তারাই বদলে গেছে।’
২০২০ সালের দিকে সাংস্কৃতিক ইস্যুতে ডেমোক্র্যাটদের অবস্থান বেশি দূর গিয়েছিল কিনা—এমন প্রশ্নে টালারিকো বলেন, জাতীয় পর্যায়ে দল হয়তো কিছুটা বেশি দূর গেছে। তবে টেক্সাসের রাজ্য পর্যায়ে তিনি মনে করেন, কিছু বিল তাঁর নির্বাচনী এলাকার মানুষদের লক্ষ্য করে ক্ষতি করছিল। তিনি টেক্সাসের গর্ভপাত নিষেধাজ্ঞা এবং এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়কে প্রভাবিত করা আইনগুলোর কথা উল্লেখ করেন।
ট্রান্স অ্যাথলেটদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই এলজিবিটিকিউ-বিরোধী বিলগুলোর বাস্তব প্রভাব আছে আমাদের রাজ্যে, বিশেষ করে যখন সেগুলো অতিরিক্ত বিস্তৃতভাবে লেখা হয়। কোন পরিস্থিতিতে একজন ট্রান্স অ্যাথলেট খেলতে পারবে, তা নিয়ে আলোচনা হতেই পারে। কিন্তু তারা যে বিলটি পাস করতে চেয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত পাস করেছে, তা ছিল সব ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা—টি-বল আর ভার্সিটি বেসবলকে একই চোখে দেখা হয়েছিল।’ তাঁর অভিযোগ, এর উদ্দেশ্য ছিল রাজ্যের একটি খুব ছোট ও অসহায় গোষ্ঠীর পিঠে চড়ে রাজনৈতিক পয়েন্ট অর্জন।
নিজের মন্তব্য আরও স্পষ্টভাবে বলতে না পারার জন্য দুঃখও প্রকাশ করেছেন টালারিকো। তিনি বলেন, আক্রমণের বিজ্ঞাপনে তাঁর সবচেয়ে অস্পষ্ট বাক্যগুলো বেছে নেওয়া হচ্ছে; তিনি অনুতপ্ত যে নিজের অবস্থান আরও সরলভাবে বলতে পারেননি। ‘আমি নিখুঁত মানুষ নই। আমরা কেউই নই। আমি সবসময় চেষ্টা করে যাব, যাতে আরও পরিষ্কার ও কার্যকরভাবে কথা বলতে পারি,’ বলেন তিনি। তবে নিজের নির্বাচনী এলাকার মানুষদের পক্ষে দাঁড়ানোর জন্য তাঁর কোনো অনুশোচনা নেই বলেও জানান।
সম্প্রতি এক ‘জুবিলি’ ধাঁচের টাউন হলে ভোটারদের একের পর এক প্রশ্নের মুখোমুখি হন টালারিকো। সেখানে টেক্সাসের এক খ্রিষ্টান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সারাহ গার্ডনার তাঁর অতীতের ধর্ম ও সামাজিক ইস্যুসংক্রান্ত মন্তব্য—ঈশ্বর নন-বাইনারি বলা, লিঙ্গের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন এবং বাইবেল দিয়ে গর্ভপাতের যৌক্তিকতা—নিয়ে তাঁকে চাপে ফেলেন।
তবে রক্ষণশীল বিশ্লেষকদের কাছ থেকে তীব্র সমালোচনাও এসেছে। ইন্ডিপেন্ডেন্ট উইমেনের জ্যেষ্ঠ নীতি ও আইন বিশ্লেষক ইনেজ স্টেপম্যান বলেন, ‘বামপন্থীরা সবসময় সাংস্কৃতিক ইস্যুতে ধোঁয়াশা তৈরি করে। তারা এমন নীতি এগিয়ে নিয়েছে, যাতে পুরুষেরা মেয়েদের খেলার দলে, লকার রুমে, নারীদের কারাগারে ঢুকেছে; আর আপত্তি করা মানুষদের তারা জনজীবন থেকে ঠেলে বের করে দিতে চেয়েছে। এখন তারা বলছে, এসব কখনো ঘটেনি বা গুরুত্বপূর্ণ নয়। অথচ তারা নিজেদের নীতি বা ভোট বদলায় না।’
টেক্সাসের সিনেট নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন নির্বাচনের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা লড়াইগুলোর একটি। টালারিকোর এই সাক্ষাৎকার থেকে স্পষ্ট, সাংস্কৃতিক ইস্যুগুলো এই লড়াইয়ে কেন্দ্রেই থাকছে—আর তিনি চাইছেন, বিতর্কের দায় যেন তাঁর ঘাড়ে না পড়ে রিপাবলিকানদের ওপরই পড়ে।






