সামাজিক মাধ্যমের পোস্টের জেরে তিউনিসিয়ায় বিরোধী নেত্রী ওলফা হামদির চার বছরের কারাদণ্ড
তিউনিসিয়ার একটি সামরিক আদালত বিরোধীদলীয় নেত্রী ওলফা হামদিকে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। রাষ্ট্রের নিরাপত্তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং সামরিক বাহিনীকে আদেশ অমান্যে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে বলে বুধবার জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী।
হামদির আইনজীবী আকরাম মুসা জানান, তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর উৎস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্ট। তিউনিসিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বৈত নাগরিক হামদি দীর্ঘদিন ধরে প্রেসিডেন্ট কাইস সাইদের শাসনের কড়া সমালোচক। তিনি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন এবং আগাম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
সমালোচকদের মতে, এই মামলা সাইদের বিরোধীদের ওপর চলমান দমন-পীড়নের সর্বশেষ উদাহরণ। তাঁর শাসনামলে বিরোধীদলীয় নেতা, কর্মী ও সাংবাদিকদের কারাগারে পাঠানোর ঘটনা একের পর এক ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
থার্ড রিপাবলিক পার্টির নেতা হামদি ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। তখন তাঁর বয়স ছিল ৩৬ বছর। প্রার্থীদের জন্য নির্ধারিত ন্যূনতম ৪০ বছর বয়সের শর্ত পূরণ না হওয়ায় তাঁর প্রার্থিতা বাতিল করা হয়।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে একটি ফ্লাইটে দেশে ফেরার পর তিউনিসিয়ার প্রধান বিমানবন্দর থেকে তাঁকে আটক করা হয়। এর আগে তিনি বিদেশে বসবাস করছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রে একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান চালাতেন এবং একসময় তিউনিসিয়ার জাতীয় বিমান সংস্থা তিউনিসএয়ারের প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
আইনজীবী মুসা জানান, এবারের চার বছরের সাজা গঠিত হয়েছে আরও দুটি পৃথক মামলায় পাওয়া দুই বছর করে দুটি কারাদণ্ড মিলিয়ে। এর পাশাপাশি তাঁকে ৮০ হাজার দিনার জরিমানাও করা হয়েছে, যা প্রায় ২৬ হাজার মার্কিন ডলারের সমান।
এটিই হামদির প্রথম সাজা নয়। গত মার্চে আরেকটি পৃথক মামলায় তাঁকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে চলা এসব মামলার তীব্র সমালোচনা করেছে বিশ্বের মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
যুক্তরাষ্ট্র এই ঘটনা নজরে রেখেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, ওয়াশিংটন পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তাঁর ভাষায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের কাছে মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তার চেয়ে বড় কোনো অগ্রাধিকার নেই।
মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো সাইদের বিরুদ্ধে ২০২১ সালে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে স্বাধীনতা সংকুচিত করার অভিযোগ এনেছে। গত শনিবার সাইদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক বছরগুলোর সবচেয়ে বড় প্রতিবাদে হাজার হাজার তিউনিসীয় অংশ নেন; তাঁদের অভিযোগ, সাইদ গণতন্ত্রকে দুর্বল করছেন এবং অর্থনীতি সামলাতে ব্যর্থ হচ্ছেন।
তবে সাইদ বারবার বলে আসছেন, তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বা সমালোচকদের লক্ষ্যবস্তু করছেন না; আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য, পদমর্যাদা যা-ই হোক না কেন।
হামদির সাজা ঘোষণার পর এই রায় নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিক্রিয়া এবং আপিলের সম্ভাব্য পথ এখন নজরে থাকবে। মামলাটি তিউনিসিয়ায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও বিচারব্যবস্থার ভূমিকা নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও জোরালো করল বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।





