‘তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠেছে’—ইউরোপের অস্ত্রসজ্জা দেখে ভুসিচের সতর্কবার্তা
বিশ্ব বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন সার্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুসিচ। তাঁর দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠেছে।
ইউরোপজুড়ে দ্রুত সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়ানোর প্রবণতার মধ্যেই এই মন্তব্য করেছেন তিনি। মহাদেশটির দেশগুলো যে গতিতে নিজেদের অস্ত্রসজ্জিত করছে, সেটিকেই উদ্বেগের মূল কারণ হিসেবে দেখছেন ভুসিচ।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে প্রথম তাঁর এই বক্তব্যের কথা জানা যায়। পরে বুধবার (২১ অক্টোবর) আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্য ভাষান্তর করে প্রকাশ করা হয়।
রুশ সাংবাদিক কসেনিয়া সোবচাককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভুসিচ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি এবং সামরিক সক্ষমতা জোরদার করা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, স্ক্যান্ডিনেভীয় দেশগুলোসহ ইউরোপের বিভিন্ন রাষ্ট্র নিজেদের সামরিক শক্তি বাড়িয়ে চলেছে। একটির পর একটি দেশ প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়াচ্ছে এবং বাহিনীগুলোকে নতুন করে সাজাচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে জার্মানির প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রাইনমেটালের উদাহরণ টানেন ভুসিচ। তাঁর দাবি, সামরিক সরঞ্জামের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা ১৭ গুণ বেড়েছে।
ভুসিচ বলেন, ‘ইউরোপ কীভাবে নিজেদের অস্ত্রসজ্জিত করছে, তা যদি আপনারা দেখতে না পান, তাহলে ইচ্ছাকৃতভাবেই বিষয়টি উপেক্ষা করছেন। কিন্তু তারা অস্ত্রসজ্জিত হচ্ছে কেন? কী উদ্দেশ্যে?’
তাঁর এই প্রশ্নের মধ্য দিয়েই উঠে এসেছে মূল উদ্বেগটি। ভুসিচের যুক্তি হলো, এত বড় আকারের সামরিক প্রস্তুতি কোনো উদ্দেশ্য ছাড়া হয় না; এই প্রস্তুতি শেষ পর্যন্ত বড় সংঘাতের দিকেই ইঙ্গিত করে।
ইউরোপের দেশগুলোর সামরিক প্রস্তুতি বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে তাঁর এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি প্রতিরোধমূলক সতর্কতা নাকি আসন্ন সংঘাতের পূর্বপ্রস্তুতি, সেই বিতর্ক আবারও সামনে এল।
তবে ভুসিচের এই সতর্কবার্তাকে কতটা গুরুত্ব দেবে ইউরোপের রাজধানীগুলো, তা এখনো স্পষ্ট নয়। আপাতত তাঁর মন্তব্য ঘিরে আলোচনা চলছে, আর মহাদেশজুড়ে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর ধারাও অব্যাহত রয়েছে।





