প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ উদ্বেগজনক, গোয়েন্দা তথ্য থাকলে ব্যবস্থা নয় কেন: গাজী আতাউর
প্রধানমন্ত্রীর একটি অভিযোগকে ‘উদ্বেগজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। তিনি বলেছেন, রাজশাহীর জনসভায় প্রধানমন্ত্রী পতিত স্বৈরাচার ও বিরোধী দলের আঁতাতের যে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়েছেন, তা জনমনে উদ্বেগ তৈরি করার জন্য যথেষ্ট।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর জনসভার বক্তব্যের একটি অংশ তুলে ধরা হয়।
প্রধানমন্ত্রী জনসভায় বলেছিলেন, তাঁর কাছে পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য আছে যে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচার সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ সরবরাহ করছে। তাঁর অভিযোগ, দেশে ভ্রান্তি ছড়ানো ও নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে মিথ্যা বলে টিকিট বিক্রির চেষ্টা করা একটি দলের সঙ্গে সেই পক্ষ এক হয়েছে—একজন অর্থ দিচ্ছে, আরেকজন দেশে বসে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে।
গাজী আতাউর রহমান বিবৃতিতে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য খুবই স্পষ্ট। রাষ্ট্রের কাছে এ ধরনের তথ্য থাকার পর শুধু জনসভায় বক্তব্য দেওয়া বা জনসাধারণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানালেই দায়িত্ব শেষ হয় না, বরং তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হয়।
তিনি বলেন, জাতি আর কোনোভাবেই পতিত স্বৈরাচারের প্রত্যাবর্তন দেখতে চায় না। সে কারণেই অভিযোগের পর কী ব্যবস্থা নেওয়া হলো, সেটাই এখন মূল প্রশ্ন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব প্রশ্ন তুলে বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী রাজনৈতিক দল হিসেবে ও সচেতন নাগরিক হিসেবে তারা জানতে চান—প্রধানমন্ত্রীর কাছে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য থাকার পর কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং কেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, পতিত স্বৈরাচার দেশে ফিরতে চাইবে, এটা অনুমান করা যায়। তাদের প্রত্যাবর্তন প্রতিরোধ করতে দুটি কাজ জরুরি ছিল—স্বৈরতন্ত্রের সঙ্গে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করা এবং স্বৈরতন্ত্র রোধে প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংবিধানিক প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা।
কিন্তু তাঁর অভিযোগ, এই সরকার তার কোনোটাই করেনি। উপরন্তু স্বৈরাচারের সঙ্গে আঁতাত করে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরির সংবাদেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, যা জাতিকে উদ্বিগ্ন করে।
গাজী আতাউর রহমান আরও বলেন, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, তাদের থেকেও কোনো প্রতিবাদ আসেনি। এটাও প্রশ্ন তৈরি করছে। তাঁর মতে, অভিযুক্তদের উচিত নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করা।
রাজশাহীর জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। প্রধানমন্ত্রী কোন দল বা পক্ষকে উদ্দেশ্য করে এই অভিযোগ করেছেন, তা নিয়ে নানা ব্যাখ্যা ও প্রতিক্রিয়া আসছে।
ইসলামী আন্দোলনের এই বিবৃতি সেই প্রতিক্রিয়াগুলোরই একটি, যেখানে দলটি সরকারের কাছে অভিযোগের বিষয়ে শুধু বক্তব্য নয়, দৃশ্যমান আইনগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ দাবি করেছে।
এখন দেখার বিষয়, প্রধানমন্ত্রীর উত্থাপিত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সরকার কোনো ব্যবস্থা নেয় কি না এবং অভিযুক্ত পক্ষগুলো নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে কোনো বক্তব্য দেয় কি না।




