বিজয়ার দিনে রংপুরে মণ্ডপের কাজ শেষে জেনারেটরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ গেল তরুণ ডেকোরেটর কর্মীর
দেশজুড়ে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের সমাপ্তির দিনে রংপুরে ঘটল মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনা। কাউনিয়া উপজেলায় পূজামণ্ডপে জেনারেটরের সংযোগ খুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শাকিল উদ্দিন (১৯) নামে এক ডেকোরেটর কর্মীর মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার টেপামধুপুর ইউনিয়নের রাজীব গ্রামের চৈতারমোড় দিঘলটারী দুর্গা মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শাকিল উদ্দিন টেপামধুপুর ইউনিয়নের মণ্ডলটারী গ্রামের জাহিদুল ইসলামের ছেলে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শাকিল স্থানীয় মাহিন সাউন্ড অ্যান্ড ডেকোরেটরের কর্মী। পূজা শেষে তিনি মণ্ডপের প্যান্ডেল, বৈদ্যুতিক সংযোগ ও লাইটিংয়ের সরঞ্জাম খুলতে যান—অর্থাৎ উৎসবের পরের গোছগাছের কাজই করছিলেন তিনি।
প্যান্ডেল খোলার পর জেনারেটরে হাত দিতেই তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাটিতে পড়ে যান। মুহূর্তের এই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরে মন্দিরের লোকজন ও দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এরপর পরিবারের সদস্যরা তাঁর মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান। উৎসবের আবহের মধ্যেই টেপামধুপুরের ওই পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া; মাত্র ১৯ বছর বয়সী এক তরুণ কর্মীর এমন মৃত্যুতে এলাকাবাসীও মর্মাহত।
টেপামধুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রাশেদুল ইসলাম শাকিলের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাদল কুমার মণ্ডল বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও অন্যান্য আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
উল্লেখ্য, পূজামণ্ডপগুলোতে উৎসবের কয়েক দিন জেনারেটর, ভারী বৈদ্যুতিক সংযোগ ও জটিল লাইটিং ব্যবস্থা চালু থাকে; উৎসব শেষে সেগুলো খোলার সময় তাড়াহুড়ো ও অসতর্কতায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়—এই দুর্ঘটনা সেই ঝুঁকির কথাই আবার সামনে নিয়ে এল।
পুলিশের আইনগত কার্যক্রম শেষ হলেই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে আরও বিস্তারিত জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।




