ইশরাক হোসেনকে প্রতিমন্ত্রী পদে পুনর্বহালের দাবি জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী পদে ইশরাক হোসেনকে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা। বুধবার (২১ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এই দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ইশরাক হোসেনকে পুনর্বহাল করা সম্ভব না হলে জুলাই আন্দোলনের চেতনা ধারণ করেন এমন যোগ্য, সৎ, নিষ্ঠাবান ও অভিজ্ঞ কাউকে ওই পদে নিয়োগ দিতে হবে। অর্থাৎ দাবিটি শুধু একজন ব্যক্তিকে ঘিরে নয়, পদটিতে যোগ্য নেতৃত্ব নিশ্চিত করার প্রশ্নেও জোর দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনটি ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও আহতদের নিয়ে। সেখানে জুলাইয়ে আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা, শহীদ পরিবারের সদস্যদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের গেজেট প্রকাশ এবং জুলাই সনদ আইনি ভিত্তিতে বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়।
প্রসঙ্গত, ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতি গ্রহণ করার পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রজ্ঞাপন জারি করেছে—এর আগের দিনগুলোতে সেই খবরই ছিল রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রে। পদটি শূন্য হওয়ার পর এবার শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের পক্ষ থেকে তাকে ফিরিয়ে আনার দাবি উঠল।
সংবাদ সম্মেলনে শহীদ রজবুদ্দিনের বাবা রকিবুল আহমেদ বলেন, জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের পুনর্বাসন, চিকিৎসা এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি। অনেক আহত ব্যক্তি এখনো চিকিৎসার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।
তিনি বলেন, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শহীদ পরিবার ও আহতদের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বাস্তবায়িত না হওয়ায় তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। এই হতাশার প্রেক্ষাপটেই পুনর্বহালের দাবিটি জোরালোভাবে তোলা হয়েছে বলে বক্তাদের বক্তব্যে উঠে আসে।
রকিবুল আহমেদ বলেন, ইশরাক হোসেন দায়িত্বে থাকাকালে শহীদ পরিবারগুলোর বিভিন্ন অমীমাংসিত সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নিয়েছিলেন। শহীদদের কবরস্থান স্থায়ী করা ও পাকা করার বিষয়েও তিনি পদক্ষেপ নিয়েছেন। যে কাজ দীর্ঘদিনেও এগোয়নি, তার উদ্যোগে সেটি এগিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, ইশরাক হোসেন যদি স্বেচ্ছায় দায়িত্বে ফিরতে না চান, তাহলে জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করেন এবং আহত ও শহীদ পরিবারের দুঃখ-কষ্ট উপলব্ধি করতে পারেন এমন কাউকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হোক। এ ক্ষেত্রে শিক্ষিত, নীতিবান, নিষ্ঠাবান ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে বেছে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, জুলাই আন্দোলনে শহীদদের মধ্যে কোনো শ্রেণিবিভাগ থাকা উচিত নয়। পরিচিতি বা প্রভাবের ভিত্তিতে কয়েকটি পরিবারকে গুরুত্ব না দিয়ে সব শহীদ পরিবারকে সমান মর্যাদা দিতে হবে। একইভাবে আহতদের শারীরিক ক্ষতির ধরন ভিন্ন হলেও তাদের প্রত্যেকের অবদানকে স্বীকৃতি দিতে হবে।
বক্তারা বলেন, জুলাই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল বৈষম্য দূর করে ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের যথাযথ মর্যাদা এবং অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে জুলাই আন্দোলনের প্রতিনিধিত্ব সীমাবদ্ধ না রেখে সব শহীদ পরিবার ও আহত ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বানও জানান তারা।
এ সময় জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তারা এখনো এর কার্যকর বাস্তবায়ন দেখতে পাচ্ছেন না। সনদকে আইনি ভিত্তি দিয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
সব মিলিয়ে সংবাদ সম্মেলন থেকে বার্তাটি স্পষ্ট: শহীদ পরিবার ও আহতদের দাবি-দাওয়ার বাস্তবায়নে ধীরগতি নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে, আর সেই অসন্তোষের কেন্দ্রে এসেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর শূন্য পদটি। সরকার এই দাবির জবাবে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই এখন নজর থাকবে রাজনৈতিক অঙ্গনে।





