বাণিজ্য সচিব হলেন হবিগঞ্জের শরফ উদ্দীন আহম্মেদ চৌধুরী ইকবাল, জেলায় আনন্দ
হবিগঞ্জের সন্তান শরফ উদ্দীন আহম্মেদ চৌধুরী ইকবাল বাণিজ্য সচিব হয়েছেন। সিলেট বিভাগের এই জেলার একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্ব পাওয়ার খবরে নিজ জেলায় স্বাভাবিকভাবেই আনন্দ ও গর্বের আবহ তৈরি হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দেশের বাণিজ্যনীতি, আমদানি-রপ্তানি, বাজার ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরকারের যোগাযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো দেখভাল করে। সেই মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে সচিবের ভূমিকা নীতিনির্ধারণ থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত বিস্তৃত।
হবিগঞ্জ সিলেট বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা — চা বাগান, হাওর, কৃষি আর বিপুল প্রবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য পরিচিত এই জেলার মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই দেশের প্রশাসনসহ নানা পেশায় অবদান রেখে আসছেন। সেই ধারাবাহিকতাতেই এবার বাণিজ্য সচিবের আসনে বসলেন জেলার এই সন্তান।
স্থানীয়ভাবে তাকে ‘কৃতি সন্তান’ হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে — এই অভিধাতেই বোঝা যায়, নিজ এলাকার মানুষ তার এই অর্জনকে কতটা সম্মানের চোখে দেখছেন। জেলার সন্তানেরা রাষ্ট্রের উচ্চপদে গেলে সেই এলাকার তরুণদের মধ্যেও উচ্চশিক্ষা ও সরকারি সেবায় আসার আগ্রহ বাড়ে বলে মনে করেন স্থানীয় অনেকে।
বাণিজ্য সচিবের দায়িত্ব এমন এক সময়ে তার কাঁধে এলো, যখন দেশের বাজারে নিত্যপণ্যের দাম, আমদানি-রপ্তানির ভারসাম্য আর ব্যবসায়ীদের নানা দাবি-দাওয়া প্রতিদিনের আলোচনায় থাকে। এসব বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলে।
রপ্তানিমুখী খাতগুলোর জন্যও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্যের রপ্তানি বাজার ধরে রাখা, নতুন বাজার খোঁজা এবং বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার কাজে সচিব পর্যায়ের নেতৃত্ব বড় ভূমিকা রাখে।
সিলেট বিভাগের অর্থনীতির সঙ্গেও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের পরোক্ষ যোগ রয়েছে। এই বিভাগের প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ, চা শিল্প, পাথর ও কৃষিপণ্যের ব্যবসা — সবকিছুর ওপরই জাতীয় বাণিজ্যনীতির প্রভাব পড়ে। ফলে বিভাগের একজন সন্তান এই দায়িত্ব পাওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলেও প্রত্যাশা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
হবিগঞ্জ জেলার মানুষের কাছে এই খবরটি শুধু একটি প্রশাসনিক পদায়নের খবর নয়; এটি নিজ জেলার মেধা ও শ্রমের স্বীকৃতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সামাজিক পর্যায়ে অভিনন্দন জানানোর ধারাও সেই অনুভূতিরই প্রতিফলন।
প্রশাসনিক কর্মজীবনে সচিব পদ সর্বোচ্চ পর্যায়ের দায়িত্বগুলোর একটি। মন্ত্রণালয়ের ফাইল-সিদ্ধান্তের প্রশাসনিক অনুমোদন, অধীন দপ্তরগুলোর সমন্বয় এবং মন্ত্রীর নীতিগত দিকনির্দেশনা বাস্তবায়নের ভার থাকে সচিবের ওপর।
নতুন দায়িত্বে শরফ উদ্দীন আহম্মেদ চৌধুরী ইকবালের সামনে এখন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চলমান কর্মসূচিগুলো এগিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ। বাজার স্থিতিশীল রাখা থেকে রপ্তানি বাড়ানো — প্রতিটি ক্ষেত্রেই তার সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে থাকবেন সংশ্লিষ্টরা।
হবিগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা, নিজ জেলার এই কৃতি সন্তান জাতীয় পর্যায়ের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এলাকার মানুষের কল্যাণের কথাও মনে রাখবেন। এখন তার দাপ্তরিক কাজ শুরু ও মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী পদক্ষেপগুলোর দিকেই নজর থাকবে সবার।



