জাপানে চিকিৎসা নেওয়া সহজ হচ্ছে বাংলাদেশিদের জন্য, বিএমটিএ-জিমকার সমঝোতা স্মারক সই
বাংলাদেশি রোগীদের জাপানে চিকিৎসা গ্রহণের প্রক্রিয়া সহজ করা এবং উন্নত চিকিৎসাসেবার সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ মেডিক্যাল ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশন (বিএমটিএ) ও জাপানের ইন্টারন্যাশনাল মেডিক্যাল কো-অর্ডিনেটর কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশনের (জিমকা) মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই সমঝোতা স্মারকে সই করেন দুই সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
সমঝোতা অনুযায়ী, জাপানে চিকিৎসা নিতে আগ্রহী বাংলাদেশি রোগীদের যাতায়াত ও চিকিৎসাসংক্রান্ত সমন্বয় সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে জাপানের উন্নত হৃদরোগের চিকিৎসা, রোবোটিক চিকিৎসাপ্রযুক্তি ও বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে বাংলাদেশি রোগীদের জানার সুযোগও বাড়বে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে চিকিৎসা পর্যটন এবং আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানে 'জাপানে হৃদরোগের চিকিৎসার অগ্রগতি' শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য দেন কোবে বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের কার্ডিওভাসকুলার মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান হিরোমাসা ওতাকে। তিনি হৃদরোগের আধুনিক চিকিৎসা, অপটিক্যাল কোহেরেন্স টমোগ্রাফি (ওসিটি) এবং জটিল করোনারি ইন্টারভেনশনে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। বাংলাদেশি রোগীদের জন্য এসব আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা কাজে লাগানোর সম্ভাবনার কথাও তিনি বলেন।
আন্তর্জাতিক চিকিৎসা যোগাযোগবিষয়ক অধিবেশনে বক্তব্য দেন কোবে বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কমিউনিকেশন সেন্টারের প্রধান অধ্যাপক তোমো ইতো। তিনি আন্তর্জাতিক রোগীদের চিকিৎসাসেবা এবং বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। কীভাবে বিদেশি রোগীরা জাপানের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি ও চিকিৎসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন, সে বিষয়েও তিনি দিকনির্দেশনা দেন।
অনুষ্ঠানে জিমকার সেক্রেটারি জেনারেল কাতসুয়া সাকাগামি উপস্থিত ছিলেন। জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ কিয়োশি আমাদা ও সিনিয়র রিপ্রেজেন্টেটিভ ইউকো মোরিকাওয়া এবং শিপ ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালের বোর্ড পরিচালক ফুতোশি কোনোও অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
বিএমটিএর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ আরিফ হোসেন, সহসভাপতি এ এম আর মজুমদার লিটন, শাব্বির আহমদ তামিম ও আবদুর রশিদ এবং সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মুফাসসেরুল হকসহ অন্য সদস্যরা। দুই দেশের চিকিৎসা সংস্থার এই মিলনে আগামী দিনে রোগীদের সুবিধা অনেক বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন বক্তারা।
বিএমটিএ ২০২১ সাল থেকে বাংলাদেশে চিকিৎসা পর্যটন ও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্ব নিয়ে কাজ করে আসছে। অন্যদিকে, জিমকা জাপানে চিকিৎসা নিতে আগ্রহী আন্তর্জাতিক রোগীদের চিকিৎসাসেবা গ্রহণে সহায়তা করে থাকে।
প্রতি বছর উন্নত চিকিৎসার জন্য বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি রোগী ভারত, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে যান। এরই মধ্যে জাপানও নতুন গন্তব্য হিসেবে উঠে আসছে। চিকিৎসা-বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাপানের হৃদরোগ, ক্যানসার ও রোবোটিক সার্জারির প্রযুক্তি বিশ্বমানের। তবে খরচ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় এই সেবা নিতে যাওয়া রোগীর সংখ্যা এখনো সীমিত।
সমঝোতা স্মারকের ফলে জাপানে যাওয়ার আগে ভাষা, হাসপাতাল নির্বাচন, চিকিৎসা পরিকল্পনা ও ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সহজ হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। রোগীদের হয়রানি রোধে দুই সংগঠন যৌথভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
সেমিনারে আরও জানানো হয়, করোনারি হৃদরোগে জাপানে এখন কম ইনভেসিভ পদ্ধতিতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, যাতে রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন। ওসিটির মতো উন্নত ইমেজিং প্রযুক্তি ধমনির ভেতরের চিত্র স্পষ্ট করে দেখায়, ফলে চিকিৎসকের সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়। বাংলাদেশি চিকিৎসকদের জন্যও এসব প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরির কথা বলেন বক্তারা।
অনুষ্ঠানে জাইকার প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে তাদের চলমান সহযোগিতার কথা তুলে ধরেন। গ্রামাঞ্চলে মাতৃস্বাস্থ্য, টিকাদান ও সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে জাইকার প্রকল্পগুলোর সাফল্যের কথাও আলোচনায় আসে।
পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে দুই সংগঠন যৌথ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করবে। এর আওতায় থাকবে রোগী রেফারেল ব্যবস্থা, চিকিৎসা ব্যয়ের তথ্য প্রকাশ, জরুরি যোগাযোগের হটলাইন এবং জাপানি হাসপাতালগুলোর সঙ্গে সরাসরি সমন্বয়। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হবে বলে জানানো হয়।
খবর: বাসস





