নদী পার করে দেওয়ার কথা বলে নৌকায় তুলে পরিত্যক্ত স্কুলভবনে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, খুলনায় গ্রেপ্তার ৩
খুলনার তেরখাদায় নদী পার করে দেওয়ার কথা বলে এক নারীকে নৌকায় তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২০ অক্টোবর) দিনগত গভীর রাতে তেরখাদা উপজেলার মধুপুর শ্যামনগরের পুরাতন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ভবনে এই ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী ওই নারী বর্তমানে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি রয়েছেন। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ তাঁকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
এ ঘটনায় পুলিশ তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন তেরখাদা উপজেলার মধুপুর গ্রামের মিকাঈল শেখের ছেলে সামিউল শেখ (২৮), একই গ্রামের মো. আলমগীর কাজীর ছেলে মাজাহারুল কাজী (২২) এবং আশরাফ শরীফের ছেলে শাহাজাহান শরীফ (৩৮)।
পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার দিনগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ভুক্তভোগী নারী খুলনা নদী পার হয়ে দিঘলিয়া যাওয়ার জন্য তেরখাদা উপজেলার ৬ নম্বর মধুপুর ইউনিয়নের বেলেঘাটে অপেক্ষা করছিলেন। রাত গভীর হওয়ায় ঘাটে তিনি একাই পারাপারের অপেক্ষায় ছিলেন।
এ সময় কয়েকজন জেলে তাঁকে নদী পার করে দেওয়ার কথা বলেন। তাঁদের কথায় আস্থা রেখে নারী নৌকায় ওঠেন। কিন্তু জেলেরা নৌকাটি দিঘলিয়ার দিকে না নিয়ে যান মধুপুর শ্যামনগর পুরাতন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ভবনের দিকে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সেই পরিত্যক্ত ভবনে নিয়ে ওই নারীকে ধর্ষণ করা হয়। ঘটনার সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে এবং চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে পাঠায়।
পরে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সামিউল শেখ, মাজাহারুল কাজী ও শাহাজাহান শরীফকে আটক করে। গ্রেপ্তারের পর তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
খুলনা জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক বলেছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনায় আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদের গ্রেপ্তারেও পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রাতের বেলা নদী পারাপারের জন্য অপেক্ষমাণ এক নারীকে এভাবে নিশানা করার ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের বর্ণনায়, বেলেঘাট এলাকায় রাতে যাতায়াতকারীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে আবারও।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়া চলছে এবং ভুক্তভোগীর চিকিৎসা ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতি ও বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর থাকবে সবার।



