যুক্তরাষ্ট্রে হামে তৃতীয় মৃত্যু, আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়াল ৪ হাজার ৪০০
যুক্তরাষ্ট্রে হামে আক্রান্ত হয়ে তৃতীয় এক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর জানিয়েছে দেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র সিডিসি। কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা করছে দেশটি, আর এর মধ্যেই মঙ্গলবার এই নতুন মৃত্যুটি ফেডারেল তালিকায় যুক্ত হলো।
সিডিসি জানায়নি, এই মৃত্যুটি কোন অঙ্গরাজ্যে ঘটেছে। সংস্থাটি মঙ্গলবার এই মৃত্যু নিশ্চিত করে, যখন ন্যাশনাল সেন্টার ফর হেলথ স্ট্যাটিস্টিকস যাচাই করে দেখে যে মৃত্যুসনদে হামকে মৃত্যুর অন্তর্নিহিত কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিডিসির হিসাব অনুযায়ী, ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশে হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪১০ জনে। সংস্থাটি বলেছে, আরও পর্যালোচনা শেষ হলে তাদের মৃত্যুর হিসাব বদলাতে পারে।
তবে সিডিসির জাতীয় হিসাব অঙ্গরাজ্য কর্মকর্তাদের জানানো হামজনিত মৃত্যুর সংখ্যার চেয়ে কম রয়ে গেছে। প্রাদুর্ভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অঙ্গরাজ্য পেনসিলভানিয়ায় সোমবার পর্যন্ত ১ হাজার ২৮৬ জন আক্রান্ত ও পাঁচজনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছিল।
পেনসিলভানিয়ার প্রাদুর্ভাবটি তার প্রাথমিক কেন্দ্র ল্যাঙ্কাস্টার কাউন্টির বাইরে অনেক দূর ছড়িয়ে পড়েছে। এখন রাজ্যটির ৪২টি কাউন্টিতে হামে আক্রান্ত রোগীর খবর পাওয়া যাচ্ছে।
হামে মৃত্যু গণনার ফেডারেল সরকারের পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সিডিসি সম্প্রতি অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগগুলোর প্রতিবেদনের বদলে ন্যাশনাল সেন্টার ফর হেলথ স্ট্যাটিস্টিকসের মৃত্যু-তথ্যের ওপর নির্ভর করার দিকে সরে গেছে।
সিডিসি এর আগে আল জাজিরাকে জানিয়েছিল, হামজনিত মৃত্যুর একটি মানসম্মত সংজ্ঞা নির্ধারণের জন্য তারা কাউন্সিল অব স্টেট অ্যান্ড টেরিটোরিয়াল এপিডেমিওলজিস্টসের সঙ্গে কাজ করছে। এর মধ্যে তারা পরিমাপ হিসেবে এনসিএইচএসের মৃত্যু-তথ্যই ব্যবহার করবে।
অর্থাৎ অঙ্গরাজ্যগুলোর হিসাবে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি দেখা গেলেও ফেডারেল তালিকায় তা পুরোপুরি প্রতিফলিত হচ্ছে না — আর এই ব্যবধান নিয়েই নজরদারি চলছে।
প্রাদুর্ভাবের আকার থেকেই স্পষ্ট, হাম আবার যুক্তরাষ্ট্রের জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা ৪ হাজার ৪০০ ছাড়িয়ে যাওয়া এবং মৃত্যুর তালিকায় নতুন নাম যুক্ত হওয়া সেই উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সিডিসির হিসাব অনুযায়ী আরও পর্যালোচনা চলমান থাকায় সামনে মৃত্যু ও আক্রান্তের চূড়ান্ত চিত্র বদলাতে পারে বলেও সংস্থাটি জানিয়েছে।





