উপসাগর সফরের অংশ হিসেবে কাতারে রাষ্ট্রীয় সফর শুরু করলেন ম্যাক্রোঁ
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ মঙ্গলবার দোহায় পৌঁছে কাতারে তার রাষ্ট্রীয় সফর শুরু করেছেন। উপসাগরীয় অঞ্চল সফরের অংশ হিসেবে কাতারের আমিরের সঙ্গে তার আলোচনার মূল বিষয় জ্বালানি নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক ইস্যু।
হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান কাতারের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ সাউদ বিন আবদুলরহমান আল থানি। রাষ্ট্রীয় সফরের সম্মান হিসেবে আগমনের সময় যুদ্ধবিমান তার বিমানকে এসকর্ট করে আনে।
কাতারের আগে এই সফরে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইন ঘুরে এসেছেন। উপসাগরীয় অংশীদারদের কাছ থেকে অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহের প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করাই এই সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে বিক্ষোভের মুখে রয়েছেন ম্যাক্রোঁ। সপ্তাহান্তে ফ্রান্সজুড়ে সহিংস বিক্ষোভের পর রোববার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ফ্রান্সের জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং জ্বালানির দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে মানুষের অভিযোগের জবাব দিতে তিনি উপসাগরীয় দেশগুলোতে যাচ্ছেন।
সফর থেকে ইতিমধ্যে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের প্রতিশ্রুতি এসেছে। ফরাসি প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন থেকে মাসে অতিরিক্ত ২ লাখ টন ডিজেলের প্রতিশ্রুতি মিলেছে—প্রতিটি দেশ থেকে প্রায় ১ লাখ টন করে।
সৌদি আরবের সরবরাহ মিলিয়ে মোট প্রতিশ্রুতি দাঁড়িয়েছে মাসে ২ লাখ ৯৫ হাজার টন, যা ফ্রান্সের মোট ভোগের ১০ শতাংশের কিছু বেশি বলে জানিয়েছে এলিসে প্রাসাদ।
কাতারে রাষ্ট্রীয় সফরের শুরুতে লুসাইল প্রাসাদে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে বৈঠক করেন ম্যাক্রোঁ।
ফরাসি প্রতিনিধিদলে রয়েছেন জ্বালানি প্রতিষ্ঠান টোটালএনার্জিসের প্রধান নির্বাহী প্যাট্রিক পুয়ানে। কাতারে এই ফরাসি প্রতিষ্ঠানের বড় স্বার্থ রয়েছে; নর্থ ফিল্ড ইস্ট গ্যাস সম্প্রসারণ প্রকল্পে কাতারএনার্জির সঙ্গে অংশীদারত্ব রয়েছে তাদের।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবারের আলোচনার পর বুধবার একটি কৌশলগত সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে জ্বালানি, অর্থনীতি, বিনিয়োগ ও প্রতিরক্ষা বিষয় আলোচনায় আসবে।
দোহায় এক ব্রিফিংয়ে মন্ত্রণালয়ের মিডিয়া ও যোগাযোগ পরিচালক ইব্রাহিম বিন সুলতান আল হাশমি ফ্রান্সকে বন্ধু ও মিত্র হিসেবে বর্ণনা করেন এবং আঞ্চলিক সংকটের সময় ফ্রান্সের অবস্থানকে স্বাগত জানান।
ইরান যুদ্ধের সময় ফ্রান্স ছিল কাতারের প্রধান রক্ষকদের একজন। যুদ্ধবিমানসহ অন্যান্য সক্ষমতা দিয়ে উপসাগরীয় দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করতে সাহায্য করেছিল প্যারিস।
এই সফর দুই দেশের বিনিয়োগ সম্পর্কের ধারাবাহিকতাও বহন করে। ২০২৪ সালে আমিরের ফ্রান্সে রাষ্ট্রীয় সফরের সময় কাতার জ্বালানি রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মহাকাশ ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতে ১ হাজার কোটি ইউরো বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।




