হামে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১২০৪; এক দিনে আক্রান্ত ১২৫৯, সন্দেহভাজন রোগী ২ লাখ ১৫ হাজার ছাড়াল
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হামের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২০৪ জনে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে আরও ১ হাজার ২৫৯ শিশু, ফলে প্রাদুর্ভাবের ভয়াবহতা কমার কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। প্রতিদিনের এই হালনাগাদ হিসাবই এখন দেশের হাম পরিস্থিতির সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য চিত্র তুলে ধরছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৪২ শিশুর শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে ১ হাজার ২১৭ শিশু। অর্থাৎ নতুন আক্রান্তদের বড় অংশই উপসর্গের ভিত্তিতে চিকিৎসা নেওয়া শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ১ হাজার ১০০ শিশু। একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে আরও ১০৪ শিশু। দুই অংশ মিলিয়েই মোট মৃত্যু ১ হাজার ২০৪।
দেশে মোট সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৫ হাজার ৭৬৮ জনে। এই বিশাল সংখ্যাটিই দেখিয়ে দেয়, প্রাদুর্ভাব কত বিস্তৃত এলাকা ও কত পরিবারকে ছুঁয়ে গেছে।
এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ২৩ হাজার ১৯৯। সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত রোগীর ব্যবধান বড় হলেও হাসপাতালে ভর্তির চাপেই সংকটের গভীরতা সবচেয়ে স্পষ্ট।
মোট হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৯১ হাজার ৭৬১ জন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে ১ লাখ ৮৪ হাজার ১৬৮ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বাড়ি ফেরা রোগীর সংখ্যা বড় হলেও প্রতিদিন হাজারের বেশি নতুন শিশু আক্রান্ত হওয়া এবং প্রতিদিন মৃত্যুর খবর আসা বোঝায়, হাসপাতাল ও পরিবারগুলোর ওপর চাপ এখনো কমছে না।
১৫ মার্চ থেকে শুরু করে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত টানা এই হিসাব ধরে রাখছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। প্রতিদিনের বিজ্ঞপ্তিতে মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত, পরীক্ষায় শনাক্ত, সন্দেহভাজন রোগী, ভর্তি ও ছাড়পত্র—সবকটি সূচকই একসঙ্গে প্রকাশ করা হচ্ছে।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার হিসাবে মৃত্যু ৩ এবং আক্রান্ত ১ হাজার ২৫৯—এই দুটি সংখ্যাই এখন নজরে রাখার বিষয়। মৃত্যু ও আক্রান্তের গতি না কমলে প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলা যাবে না।
এখন পরবর্তী দিনগুলোর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদেই জানা যাবে, আক্রান্ত ও মৃত্যুর এই ধারা কমতে শুরু করেছে কিনা, নাকি ১ হাজার ২০৪ জনের প্রাণহানির পরও সংকট আরও দীর্ঘ হচ্ছে।




