আবহসংগীতের কারিগরি শেখাতে মাস্টারক্লাসে জাহিদ নিরব, ‘সুপ্ত আগুনটা জ্বালিয়ে দেওয়াই উদ্দেশ্য’
সিনেমা, ওয়েব কনটেন্ট কিংবা নাটকের কোনো দৃশ্য দর্শকের মনে দাগ কাটে অনেকটাই তার আবহসংগীতের কারণে। পর্দায় যা দেখা যায়, তার আবেগ শ্রোতা-দর্শকের কাছে জীবন্ত করে তোলে এই ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর। অথচ বাংলাদেশে এই বিষয়ে হাতে-কলমে শেখার প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ প্রায় নেই বললেই চলে।
সেই ঘাটতি পূরণের একটি চেষ্টা হিসেবে এবার ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর নিয়ে মাস্টারক্লাস নিতে যাচ্ছেন জনপ্রিয় সংগীত পরিচালক জাহিদ নিরব। আগ্রহীদের এই বিশেষ শাখার জগৎ সম্পর্কে ধারণা দিতেই তার এই উদ্যোগ।
মোশন স্কিলস একাডেমির আয়োজনে আগামী ২৪ অক্টোবর বিকেল ৪টায় রাজধানীর বারিধারায় অনুষ্ঠিত হবে কর্মশালাটি। চার ঘণ্টার এই মাস্টারক্লাসে ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর তৈরির অভিজ্ঞতা, কাজের প্রক্রিয়া এবং এ বিষয়ে নিজের পথচলার নানা দিক তুলে ধরবেন জাহিদ নিরব।
‘মহানগর’, ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’, ‘পরাণ’, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ও ‘রকস্টার’-এর মতো জনপ্রিয় কনটেন্টে তার তৈরি ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক দর্শকের প্রশংসা কুড়িয়েছে। মাস্টারক্লাসে সেই কাজগুলোর অভিজ্ঞতাও অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে ভাগ করে নেবেন তিনি।
জাহিদ নিরব বলেন, চার ঘণ্টার একটি কর্মশালায় ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোরের সবকিছু শেখানো সম্ভব নয়। তবে আগ্রহীদের জন্য একটি সঠিক দিকনির্দেশনা তৈরি করে দেওয়াই এর মূল লক্ষ্য। তার ভাষায়, এই ওয়ার্কশপের উদ্দেশ্য হচ্ছে শুধু সুপ্ত আগুনটা জ্বালিয়ে দেওয়া।
সময়ের অন্যতম ব্যস্ত এই মিউজিশিয়ানের মতে, ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর শেখার আগ্রহ রয়েছে এমন যে কেউ এই কর্মশালায় অংশ নিতে পারবেন। সহকারী পরিচালকদের জন্যও এটি কার্যকর হতে পারে, কারণ ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর সম্পর্কে ধারণা থাকলে নির্মাণের সময় সংগীতের ব্যবহার ও প্রয়োজনীয়তা বুঝে নেওয়া সহজ হয়।
নিজের শেখার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জাহিদ নিরব বলেন, তিনি যখন ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোরের কাজ শুরু করেন, তখন দেশে হাতে-কলমে শেখার তেমন কোনো মাধ্যম ছিল না। ২০১৬ সালের দিকে অনলাইনে প্রায় ১৬ হাজার টাকা দিয়ে একটি মাস্টারক্লাস কিনেছিলেন তিনি। পাভেল ও ইমনসহ আরও অনেকে সেই সময় এভাবেই শেখার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেছেন। শুরুর দিকে ওই অনলাইন মাস্টারক্লাস তাকে খুব সাহায্য করেছিল।
তার মতে, কম্পোজিশন এমন একটি বিষয়, যা কেবল অন্য কাউকে শেখানোর মাধ্যমে পুরোপুরি আয়ত্ত করা সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন নিজের অনুশীলন। তবে অভিজ্ঞদের কাছ থেকে সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে আগ্রহীরা নিজেদের দক্ষতা বিকাশের পথ খুঁজে নিতে পারবেন।
দৃশ্যের সঙ্গে মিলিয়ে তৈরি এই সংগীত দর্শকের অনুভূতি গড়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কোন দৃশ্যে কোন ধরনের সুর আবেগকে তীব্র করবে আর কোথায় নীরবতাই হবে সবচেয়ে শক্তিশালী — এসব সিদ্ধান্তই একজন স্কোর কম্পোজারের কাজের প্রাণ।
ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর নিয়ে আগ্রহীদের জন্য এই মাস্টারক্লাসকে তাই কেবল একটি প্রশিক্ষণ হিসেবে দেখছেন না জাহিদ নিরব। তার কাছে এটি সংগীতের এই বিশেষ শাখায় কাজ শুরু করার প্রাথমিক দিকনির্দেশনা।
২৪ অক্টোবরের এই আয়োজন সফল হলে নতুন প্রজন্মের অনেক সংগীতকর্মী ও নির্মাতা ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোরের জগতে পা রাখার প্রেরণা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।





