তিন বছর ধরে শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি ২৬ প্রতিষ্ঠানে, অনুমোদন বাতিলের কারণ দর্শাতে বলল কারিগরি বোর্ড
বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন এইচএসসি (বিএমটি) শিক্ষাক্রম পরিচালনাকারী ২৬টি প্রতিষ্ঠান টানা তিন বছর ধরে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি করেনি। ভর্তি কার্যক্রম একেবারেই বন্ধ থাকায় এবার এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে শিক্ষা বোর্ড।
বোর্ডের পক্ষ থেকে ওই ২৬টি প্রতিষ্ঠানকে তাগিদপত্র দেওয়া হয়েছে। সেই পত্রে জানতে চাওয়া হয়েছে, কেন তাদের অনুমোদন বাতিল করা হবে না। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখন লিখিতভাবে জবাব দিতে হবে, কেন তারা তিন বছর ধরে শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারেনি কিংবা করেনি।
এইচএসসি (বিএমটি) হলো উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তিনির্ভর একটি শিক্ষাক্রম, যা কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরিচালিত হয়। এই শিক্ষাক্রমের আওতায় বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের ভর্তি করে পাঠদান করে থাকে।
কিন্তু টানা তিন বছর ধরে একটি প্রতিষ্ঠানেও শিক্ষার্থী ভর্তি না হওয়ার অর্থ হলো, সেখানে কার্যত কোনো শিক্ষা কার্যক্রমই চলছে না। অনুমোদন নিয়ে বছরের পর বছর প্রতিষ্ঠান চালু রাখা হলেও শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থী না থাকলে সেই অনুমোদনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
শিক্ষা বোর্ডের এই পদক্ষেপকে নামসর্বস্ব ও নিষ্ক্রিয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিহ্নিত করার উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যেসব প্রতিষ্ঠান শুধু কাগজে-কলমে টিকে আছে, সেগুলোর অনুমোদন বহাল রাখা হলে পুরো কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থার মান নিয়েই প্রশ্ন থেকে যায়।
তাগিদপত্র পাওয়ার পর এখন প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবের ওপরই নির্ভর করছে পরবর্তী সিদ্ধান্ত। জবাব সন্তোষজনক না হলে কিংবা নির্ধারিত সময়ে কোনো জবাব না এলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুমোদন বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
অন্যদিকে, কোনো প্রতিষ্ঠান যদি যৌক্তিক কারণ দেখাতে পারে — যেমন শিক্ষার্থী সংকট বা স্থানীয় পর্যায়ের বিশেষ পরিস্থিতি — তাহলে বোর্ড সেই বিষয়গুলো বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তবে তিন বছর ধরে ভর্তি বন্ধ থাকার বিষয়টি কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্যই সহজভাবে ব্যাখ্যা করা কঠিন হবে।
কারিগরি শিক্ষাকে যুগোপযোগী ও কর্মমুখী করার কথা সরকার বারবার বলে আসছে। সেই প্রেক্ষাপটে সক্রিয় ও মানসম্মত প্রতিষ্ঠানগুলোকে টিকিয়ে রাখা এবং নিষ্ক্রিয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাছাই করে বাদ দেওয়া এই খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই ঘটনা ভবিষ্যতে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনুমোদন ও তদারকির ক্ষেত্রেও একটি বার্তা দিচ্ছে। অনুমোদন পেলেই তা চিরস্থায়ী নয়; নিয়মিত শিক্ষার্থী ভর্তি ও পাঠদান চালু না থাকলে অনুমোদন বাতিল হতে পারে — বোর্ডের তাগিদপত্রে সেই অবস্থানই স্পষ্ট।
এখন দেখার বিষয়, ২৬টি প্রতিষ্ঠান বোর্ডের কাছে কী জবাব দেয় এবং শেষ পর্যন্ত কতটি প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন বাতিল হয়। বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে এই শিক্ষাক্রমের প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎ চিত্র আরও পরিষ্কার হবে।




