…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › খেলা › খবর
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — আবদুল কুদ্দুস, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ
খেলা

আতালের সেঞ্চুরি আর রশিদের ঘূর্ণিতে জিম্বাবুয়েকে ১৫৮ রানে উড়িয়ে দিল আফগানিস্তান, চাপে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলমান ত্রিদেশীয় সিরিজে জিম্বাবুয়েকে ১৫৮ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে আফগানিস্তান। সেদিকুল্লাহ আতালের সেঞ্চুরি আর রশিদ খানের ঘূর্ণি বোলিংয়ে ভর করে পাওয়া এই জয় আফগানদের ফাইনালের পথে এগিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে কঠিন সমীকরণ।

সিরিজের শুরুটা হয়েছিল দুই দলের জন্যই জয় দিয়ে। জিম্বাবুয়ে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশকে বড় ব্যবধানে হারায়, আর আফগানিস্তানও জয় দিয়ে যাত্রা শুরু করে। ফলে তাওহীদ হৃদয়ের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের জন্য শেষ ম্যাচটি রূপ নিয়েছে অলিখিত ফাইনালে — ফাইনালে উঠতে হলে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সেই ম্যাচ জিততেই হবে, সঙ্গে নেট রান রেট বাড়ানোর কঠিন চ্যালেঞ্জও থাকবে।

বাংলাদেশ মাঠে নামার আগেই আফগানিস্তান দেখিয়ে দিল নিজেদের শক্তির পুরো চিত্র। টসের পর ব্যাটিংয়ে নেমে আফগানরা গড়ে তোলে ২৯৪ রানের বড় সংগ্রহ, যার ভিত গড়ে দেন দুই ওপেনার ও তিন নম্বরে নামা ব্যাটারদের দৃঢ় ব্যাটিং।

ইনিংসের শুরুটা ছিল আগ্রাসী। রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও ইব্রাহিম জাদরানের ব্যাটিংয়ে সপ্তম ওভারেই পঞ্চাশ তুলে ফেলে আফগানিস্তান। দলীয় ৫০ রানে গুরবাজ ২৫ রান করে বিদায় নিলেও রানের গতি থামেনি।

এরপর ইব্রাহিম জাদরানের সঙ্গে জুটি বাঁধেন সেদিকুল্লাহ আতাল। দুজনের ১৪০ রানের জুটি আফগান ইনিংসকে নিয়ে যায় বড় স্কোরের দিকে। এই জুটিই জিম্বাবুয়ে বোলারদের ম্যাচ থেকে প্রায় ছিটকে দেয়।

ব্র্যাড ইভান্সের বলে আউট হয়ে জাদরান থামেন সেঞ্চুরির দোরগোড়ায়। ৯৬ বলে ৯টি চার ও ২টি ছয়ে তিনি করেন ৯০ রান। ক্যারিয়ারে এই নিয়ে চতুর্থবার নব্বইয়ের ঘরে থামতে হলো এই ওপেনারকে — সেঞ্চুরির আক্ষেপটা তাই আরও পোড়াবে তাকে।

জাদরান ফিরলেও থামেননি আতাল। দলীয় ২৫৯ রানে বিদায় নেওয়ার আগে তিনি তুলে নেন সেঞ্চুরি — ১০২ রানের ইনিংসটি ছিল আফগানদের বড় সংগ্রহের প্রাণ।

তবে ইনিংসের শেষ দিকে ধস নামে আফগান শিবিরে। মাত্র ৫.২ ওভারে ৩৫ রান তুলতেই শেষ পাঁচ ব্যাটার বিদায় নেন। তবু ততক্ষণে স্কোরবোর্ডে জমা হয়ে গেছে ২৯৪ রান, যা তাড়া করা যেকোনো দলের জন্যই কঠিন।

জবাবে ২৯৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে জিম্বাবুয়ের টপ অর্ডার আবারও ধসে পড়ে। বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচে ২৪ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর এবার আফগানদের বিপক্ষে ৪৩ রানেই পড়ে যায় চার উইকেট। ১৩তম ওভারে চতুর্থ উইকেট পতনের পর সিকান্দার রাজা ও রায়ান বার্ল প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন।

৩২তম ওভারে ৬৪ রানের সেই জুটি ভাঙে বার্লের বিদায়ে; তিনি করেন ৩১ রান। ইনিংস সর্বোচ্চ ৪৮ রান করে থামেন রাজাও। এরপর রশিদ খানের ঘূর্ণিতে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে জিম্বাবুয়ের ইনিংস — মাত্র ২৯ রানে হারায় শেষ ছয় উইকেট। ৮ ওভারে মাত্র ১৭ রান খরচায় চার উইকেট তুলে নেন আফগান স্পিনার রশিদ খান। শেষ পর্যন্ত ৩৮.৪ ওভারে ১৩৬ রানেই গুটিয়ে যায় জিম্বাবুয়ে।

স্কোরকার্ডে ম্যাচের চিত্র স্পষ্ট: আফগানিস্তান ২৯৪ (আতাল ১০২, জাদরান ৯০; মাসুকু ৩/৪৪, ইভান্স ৩/৪৭) — জিম্বাবুয়ে ১৩৬ (রাজা ৪৮; রশিদ ৪/১৭, ফারুকী ২/১৫)। জিম্বাবুয়ের জন্য হিসাবটা ছিল পরিষ্কার — ১৯৬ রান অতিক্রম করলেই তারা পৌঁছে যেত ফাইনালে; কিন্তু সেই রানও তুলতে পারেনি দলটি।

এই ফলের পর এখন পর্যন্ত তিন দলই প্রতিযোগিতায় টিকে আছে। ফলে সিরিজের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের সামনে সমীকরণ একটাই — আফগানিস্তানকে হারাতেই হবে, এবং সেটাও এমন ব্যবধানে যাতে নেট রান রেটের হিসাব পক্ষে আসে। আতাল-রশিদদের এই ফর্ম দেখার পর কাজটা যে মোটেও সহজ হবে না, তা স্পষ্ট।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — জাকির হোসেন, সম্ভাব্য ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী, ৭ নং ওয়ার্ড, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন

খেলা বিভাগের আরও খবর