প্যারিসে লুটের শিকার বাংলাদেশি ব্যবসায়ীর পাশে ফরাসিরা, তহবিলে জমল ৯০ হাজার ইউরোর বেশি
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে দোকান লুটের শিকার হওয়া এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ীর পাশে দাঁড়িয়েছেন হাজার হাজার ফরাসি নাগরিক। তার ক্ষতি পুষিয়ে দিতে খোলা অনলাইন তহবিলে মাত্র কয়েক দিনে জমা পড়েছে ৯০ হাজার ইউরোর বেশি, যা ছাড়িয়ে গেছে প্রত্যাশাকেও।
ঘটনাটি ঘটে গত ১৭ অক্টোবর। সেদিন ফ্রান্সের রাজধানীজুড়ে ব্যাপক সহিংসতা ও রাজপথে বিশৃঙ্খলা চলছিল। সেই সময় বুলভার মাশেন্টা এলাকায় প্রবাসী রবিউল হাসানের পরিচালিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সুপরিকল্পিতভাবে লুটপাটের শিকার হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত দোকানটির নাম ‘রাফিদ ইনফরম্যাটিক্স’। ধ্বংসযজ্ঞের পর ব্যবসায়ীর ওপর নেমে আসে চরম মানসিক আঘাত ও আর্থিক অনিশ্চয়তা — নতুন করে দোকান সাজানো এবং পণ্য তোলার সামর্থ্য নিয়েই ছিল সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
কিন্তু সেই অনিশ্চয়তার মধ্যেই স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্য থেকে দেখা দিয়েছে অভূতপূর্ব সহমর্মিতা ও সংহতি। ফ্রান্সজুড়ে সাধারণ নাগরিকরা দ্রুত একত্রিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসী উদ্যোক্তার পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং তাকে আর্থিক ও নৈতিক সহায়তা দিয়েছেন।
সহায়তার এই উদ্যোগ ছিল অত্যন্ত দ্রুত, সুসংগঠিত ও হৃদয়স্পর্শী। সাধারণ মানুষ ডিজিটাল সংহতিকে রূপ দিয়েছেন বাস্তব সহযোগিতায়। ‘লেইচি’ নামের অনলাইন ক্রাউডফান্ডিং প্ল্যাটফর্মে বুলভার মাশেন্টার মোবাইল দোকানের হাসানের সাহায্যের আহ্বান জানিয়ে একটি তহবিল খোলা হয়, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে সোমবার লন্ডন সময় রাত আটটা নাগাদ প্রায় ১০ হাজার দাতার কাছ থেকে অনুদান জমা পড়ে। সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯০ হাজার ৪০৩ ইউরো, যা লুট হওয়া ক্ষতির পরিমাণকেও ছাড়িয়ে গেছে।
রবিউল হাসানের মতো একজন ব্যবসায়ীর কাছে এই বিশাল উদারতা কেবল আর্থিক ক্ষতিপূরণের চেয়েও অনেক বেশি কিছু। ভাঙা নিরাপত্তা শাটার মেরামত এবং নতুন পণ্য তোলার জন্য এই তহবিল বণ্টন তদারকি করছেন স্থানীয় নেতা ও আয়োজকেরা।
এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে, সংকটের সময় মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সীমানা পেরিয়ে যেতে পারে। বহুজাতিক শহুরে জনপদে পারস্পরিক শ্রদ্ধা আর টিকে থাকার লড়াইয়ের এক শক্তিশালী স্মারক হয়ে উঠেছে প্যারিসের এই চিত্র।
ধ্বংসস্তূপের গল্পের পাশাপাশি প্যারিস থেকে এবার ছড়িয়ে পড়েছে সৌহার্দ্যের গল্প, যা সারা বিশ্বের মানুষকে অনুপ্রাণিত করছে — বিশেষ করে প্রবাসে ব্যবসা করে টিকে থাকার লড়াইয়ে থাকা অসংখ্য বাংলাদেশি উদ্যোক্তার কাছে এই সংহতি এক বড় উৎসাহের বার্তা।




