উত্তর শাহবাজপুরে উত্তরাধিকার সনদ জালিয়াতির অভিযোগ, চেয়ারম্যানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নে উত্তরাধিকার সনদ জালিয়াতি করে সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে।
গত ১১ অক্টোবর সিলেটের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক নাজমুল হাসান মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. সাইদুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলাটি (সিআর নং-৩১৩/২৬) করেছেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী লুতার রহমান। তিনি সিলেটের বিয়ানীবাজার পৌর এলাকার সুপাতলা গ্রামের মৃত নিছার আলীর ছেলে।
মামলার আসামিরা হলেন—বাদীর সৎভাই আব্দুর রহমান (৫২) ও ফয়জুর রহমান (৫০), সৎবোন রোকিয়া বেগম (৪৮), সৎমা আনোয়ারা খাতুন (৬৫), উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে মো. সাইদুর রহমান (৩৫) এবং ওই ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন আহমদ।
মামলার এজাহার ও বাদীপক্ষের সূত্রে জানা যায়, মৃত নিছার আলী দুই বিয়ে করেন। প্রথম স্ত্রীর ঘরে এক ছেলে লুতার রহমান ও দুই মেয়ে এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছেন। পরিবারের সদস্যরা প্রবাসে থাকার সুযোগে দ্বিতীয় স্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের যোগসাজশে তাঁদের আত্মীয় সাইদুর রহমান উত্তরাধিকার সনদ জাল করে সম্পত্তি নিজেদের অনুকূলে নেওয়ার উদ্যোগ নেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, তাঁর পিতার সম্পত্তি দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা সাইদুর রহমান দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তানদের প্ররোচনায় প্রথম স্ত্রীর তিন সন্তানকে বাদ দিয়ে উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে একটি জাল উত্তরাধিকার সনদ সংগ্রহ করেন। পরে ওই সনদের ভিত্তিতে মৃত নিছার আলীর নামে থাকা জমি ও সম্পত্তি রেকর্ড করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রবাস থেকে দেশে ফিরে পিতার সম্পত্তির খোঁজ নিতে গিয়ে লুতার রহমান কথিত জাল সনদের বিষয়টি জানতে পারেন। পরে এ বিষয়ে সৎভাই-বোনদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও সহযোগিতা না পেয়ে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন বলে জানিয়েছেন।
লুতার রহমান বলেন, সাইদুর রহমান কেয়ারটেকার হিসেবে তাঁর পিতার সম্পত্তি দেখাশোনা করতেন; সেই সুযোগে সৎমায়ের সন্তানদের প্ররোচনায় প্রথম মায়ের ঘরের তিন সন্তানকে বাদ দিয়ে জাল সনদ সংগ্রহ করে পিতার জমি ও সম্পত্তি রেকর্ড করা হয়। বিষয়টি জানার পর সৎভাই-বোনদের কাছ থেকে সহযোগিতা না পেয়ে বাধ্য হয়ে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন এবং ন্যায়বিচার পেতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
মামলার অন্য অভিযুক্তরা প্রবাসে থাকায় তাঁদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে উত্তরাধিকার সনদের আবেদনকারী হিসেবে উল্লেখিত সাইদুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। এ বিষয়ে তাঁর কিছু জানা নেই দাবি করে তিনি বলেন, “এটা তাঁদের নিজেদের সমস্যা, তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।” এ সময় তিনি নিজেকে আইনজীবী বলেও পরিচয় দেন।
অন্যদিকে, উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন আহমদের কাছে মুঠোফোনে সনদটির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, সাইদুর রহমানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি উত্তরাধিকার সনদটি প্রদান করা হয়।
বিয়ানীবাজারের একজন নাগরিকের ক্ষেত্রে উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়ন থেকে কীভাবে উত্তরাধিকার সনদ দেওয়া হলো—এমন প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান বলেন, ২০২১ সালের ২১ জুলাই তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সদস্য সেলিম খানের স্বাক্ষরিত একটি উত্তরাধিকার সনদের সূত্র ধরে তিনি নতুন সনদটি দিয়েছেন। তবে সনদ জালিয়াতির বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য সেলিম খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। বর্তমান চেয়ারম্যান সনদ দিয়ে থাকতে পারেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।




