লুটের মাল অনলাইনে বিক্রি ঠেকাতে প্ল্যাটফর্মগুলোকে ডেকে পাঠাল ফ্রান্স
সপ্তাহান্তে ফ্রান্সজুড়ে লুটপাটের পর এখন নতুন লড়াই অনলাইনে। চুরি যাওয়া পণ্য যাতে অনলাইন মার্কেটপ্লেসে বিক্রি হতে না পারে, সেজন্য ভিন্টেড, ইবে-সহ বড় বড় অনলাইন পুনঃবিক্রয় প্ল্যাটফর্মগুলোকে তলব করেছে ফরাসি সরকার।
ফ্রান্সের ডিজিটালবিষয়ক মন্ত্রী আন ল্য হেনানফ সোমবার সামাজিক মাধ্যম এক্সে লিখেছেন, সরকার আশা করে প্ল্যাটফর্মগুলো প্রশ্নবিদ্ধ তালিকাগুলো বিলম্ব না করে সরিয়ে ফেলবে। তিনি আরও বলেন, সম্ভাব্য চোরাই পণ্য পুনরায় বিক্রি করা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে বিচারের মুখোমুখি করতে প্ল্যাটফর্মগুলোকে সরকারি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে হবে।
মন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যরা সন্ধ্যা ৭টায় ভিন্টেড, অ্যামাজন, ইবে, মেটা ও টিকটকের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক ডেকেছেন। ফ্রান্সের শীর্ষস্থানীয় স্বাধীন পুনঃবিক্রয় প্ল্যাটফর্ম ল্যবোঁকোয়াঁ-এর প্রতিনিধিরাও সেই বৈঠকে থাকবেন।
দিনের শুরুতে সরকারের এক সংবাদ সম্মেলনে ক্ষুদ্র ব্যবসাবিষয়ক মন্ত্রী সের্জ পাপ্যাঁ বলেন, সন্দেহজনক তালিকার পেছনের ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্তকারী ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর মধ্যে সমন্বয় নিয়ে কাজ চলছে। এ বিষয়ে একটি নির্দিষ্ট প্রোটোকল তৈরি হবে বলেও সরকারি একটি সূত্র জানিয়েছে।
ভিন্টেড ফ্রান্সের একজন মুখপাত্র বলেছেন, তাদের প্ল্যাটফর্মে চুরি যাওয়া পণ্য বিক্রি করা বা কেনার প্রস্তাব দেওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এ বিষয়ে তাদের নীতি ‘শূন্য সহনশীলতা’। গত সপ্তাহান্তের পর থেকে তাদের দল চোরাই পণ্য থাকতে পারে এমন তালিকা শনাক্ত ও সরিয়ে ফেলতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে এবং সন্দেহজনক তালিকার ওপর নজরদারি বাড়িয়েছে।
অন্য প্ল্যাটফর্মগুলোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে আলোচনায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডিজিটাল বাজারে প্ল্যাটফর্মগুলোর দায়িত্ব ও অবৈধ বাণিজ্য পর্যবেক্ষণের দীর্ঘমেয়াদি প্রশ্নগুলোও উঠে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইউরোপীয় কমিশনের মুখপাত্র তোমা রেনিয়ে বলেছেন, অনলাইন মার্কেটপ্লেসে লুটের পণ্য বিক্রির বিষয়টি একটি ‘নতুন মাত্রা’, এবং ফরাসি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতায় কমিশন বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আগ্রহী।
এদিকে আরও লুটপাট ও দাঙ্গা ঠেকাতে ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়্যাঁ ল্যকোর্নু স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সোমবার সন্ধ্যায় ‘আংশিক কারফিউ’ জারির নির্দেশ দিয়েছেন।
পাপ্যাঁ জানিয়েছেন, সপ্তাহান্তের অস্থিরতায় ক্ষতিগ্রস্ত আনুমানিক ৩ হাজার স্থানীয় ব্যবসাকে আর্থিক সহায়তা দিতে একটি ‘বিশেষ সহায়তা তহবিল’ গঠন করা হবে।
সপ্তাহান্তের সহিংসতা ও লুটপাট ফ্রান্স সরকারের জন্য বড় সংকট তৈরি করেছে। রাস্তার অস্থিরতা থামানোর পাশাপাশি এখন সেই অপরাধের অর্থনৈতিক ছায়া — চোরাই পণ্যের অনলাইন বাণিজ্য — ঠেকানোও সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে বৈঠক থেকে কী প্রোটোকল বেরিয়ে আসে এবং তালিকা সরানো ও বিক্রেতা শনাক্তকরণে প্ল্যাটফর্মগুলো কতটা এগিয়ে আসে, তার ওপরই নির্ভর করবে এই উদ্যোগের সাফল্য।
ফরাসি কর্তৃপক্ষের বার্তা স্পষ্ট: লুটের পণ্য বিক্রির পথ বন্ধ করতে হলে প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোকেও পুলিশের পাশে দাঁড়াতে হবে।





