…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › আইন ও অপরাধ › খবর
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — আবদুল কুদ্দুস, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ
আইন ও অপরাধ

বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার আপিল শুনানি ৮ ডিসেম্বর, দিন ধার্য করল আপিল বিভাগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

পুরান ঢাকায় দর্জি বিশ্বজিৎ দাসকে কুপিয়ে হত্যার মামলায় আপিল শুনানির জন্য আগামী ৮ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (১৯ অক্টোবর) আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতের বিচারপতি মো. রেজাউল হক এই তারিখ নির্ধারণ করেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল আদালতের এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে এই মামলার আপিল দ্রুত শুনানির জন্য আপিল বিভাগে আবেদন করেছিল রাষ্ট্রপক্ষ; সোমবার আবেদনটি শুনানির জন্য কার্যতালিকায় ওঠে এবং শুনানি শেষে আদালত ৮ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন।

ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর। সেদিন বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কের কাছে বিশ্বজিৎ দাসকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। দিনে-দুপুরে জনসমক্ষে ঘটা এই হত্যাকাণ্ড সারা দেশে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছিল।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ঘটনার দিন বিশ্বজিৎ লক্ষ্মীবাজারের বাসা থেকে শাঁখারীবাজারে নিজের দোকানে যাচ্ছিলেন। পথে ছাত্রলীগের একদল কর্মী তাঁকে মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। প্রাণ বাঁচাতে দৌড় দিলে শাঁখারীবাজারের রাস্তার মুখে তিনি পড়ে যান।

পরে রিকশাচালক রিপন বিশ্বজিৎকে রিকশায় তুলে মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে যান, কিন্তু সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। বিশ্বজিৎ ছিলেন শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর গ্রামের দাসপাড়া মহল্লার বাসিন্দা অনন্ত দাসের ছেলে। ঘটনার দিনই সূত্রাপুর থানায় মামলা হয় এবং পরে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়।

তদন্ত শেষে ২০১৩ সালের ৫ মার্চ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ২১ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তদন্ত চলাকালে আসামি শাকিল, শাওন ও নাহিদ আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেন, ঘটনার সময় শাকিলের হাতে চাপাতি এবং রাজনের হাতে ড্যাগার ছিল; অন্যদের হাতে ছিল রড ও লাঠি।

২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক এ বি এম নিজামুল হক এই মামলার রায় দেন। রায়ে ২১ আসামির মধ্যে আটজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া বেআইনি সমাবেশের আরেকটি ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ওই ১৩ জনকে ছয় মাস করে কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়; জরিমানা অনাদায়ে তাঁদের আরও ১৫ দিনের সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়।

বিচারিক আদালতের রায়ের পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে; পাশাপাশি মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করেন আসামিরা। ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট হাইকোর্ট রফিকুল ইসলাম শাকিল ও রাজন তালুকদারের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন।

একই রায়ে সাইফুল ইসলাম ও কাইয়ুম মিঞাকে মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস দেওয়া হয়। মাহফুজুর রহমান নাহিদ, এমদাদুল হক এমদাদ, জি এম রাশেদুজ্জামান শাওন ও মীর নূরে আলম লিমনের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

বিচারিক আদালতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া এএইচএম কিবরিয়া ও গোলাম মোস্তফাকে হাইকোর্ট খালাস দেন। অন্যদিকে বিচারিক আদালতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আরও ১১ আসামির সাজা হাইকোর্ট বহাল রাখেন; তাঁরা হাইকোর্টে আপিল করেননি। তাঁরা হলেন খন্দকার ইউনুস আলী, তারেক বিন জোহর তমাল, আলাউদ্দিন, ওবায়দুল কাদের তাহসিন, ইমরান হোসেন, আজিজুর রহমান, আল আমিন শেখ, রফিকুল ইসলাম, মনিরুল হক পাভেল, কামরুল হাসান ও মোশাররফ হোসেন।

হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আপিল করেন। দীর্ঘদিন পর এবার সেই আপিল দ্রুত শুনানির উদ্যোগ নিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ, যার ধারাবাহিকতায় সোমবারের এই দিন ধার্য হলো।

আগামী ৮ ডিসেম্বরের শুনানিতে আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে প্রায় ১৪ বছর পুরোনো এই আলোচিত হত্যা মামলার চূড়ান্ত পরিণতি। সেদিনের শুনানির দিকেই এখন নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট সবার।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — জাকির হোসেন, সম্ভাব্য ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী, ৭ নং ওয়ার্ড, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন

আইন ও অপরাধ বিভাগের আরও খবর