…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › ইউরোপ › খবর
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — আবদুল কুদ্দুস, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ
ইউরোপ

আলবেনিয়ায় ষষ্ঠ দিনের বিক্ষোভে পুলিশের জলকামান-কাঁদানে গ্যাস, আহত ২৮

নিজস্ব প্রতিবেদক • পড়ার সময়: ৩ মিনিট

আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ষষ্ঠ দিনে গড়িয়েছে এবং রবিবার তা সহিংস সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থা ও দুর্নীতি নিয়ে ক্ষোভ থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি উঠেছে।

রবিবার শত শত মানুষ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাইরে জড়ো হন। তারা ‘রামা, পদত্যাগ করো’ স্লোগান দেন। এরপর সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে শহরের কেন্দ্রজুড়ে। বিক্ষোভের কেন্দ্র মন্ত্রণালয় এলাকা ছাড়িয়ে বিস্তৃত অংশে উত্তেজনা দেখা দেয়।

বিক্ষোভকারীরা পাথর ও মলোটভ ককটেল ছোড়েন বলে জানা গেছে। জবাবে কর্মকর্তারা রাবার বুলেট ব্যবহার করেন। সংঘর্ষের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শহরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যায়।

সহিংসতার মধ্যে একটি পুলিশ স্টেশনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রবেশপথও আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সরকারি স্থাপনায় এই হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা দিনের সংঘর্ষকে আগের দিনগুলোর তুলনায় আরও গুরুতর করে তোলে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রবিবার ২৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১৯ জনই পুলিশ কর্মকর্তা। এই সংখ্যা সংঘর্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাই বেশি আহত হয়েছেন বলে ইঙ্গিত দেয়, যদিও বিক্ষোভকারীদের মধ্যেও আহত রয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী এডি রামা পদত্যাগের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি এই অস্থিরতাকে ‘বাইরের হাতের কাজ’ বলে বর্ণনা করেছেন। সরকারপ্রধানের এই অবস্থান আন্দোলনকারীদের দাবির বিপরীতে সরকারের অনড় মনোভাবই প্রকাশ করে।

বিক্ষোভকারীদের ভাষ্য, তারা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বেহাল অবস্থা, উচ্চ টিউশন ফি ও দুর্নীতি নিয়ে ক্ষুব্ধ। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সামনে জড়ো হওয়ার কারণও এই শিক্ষাকেন্দ্রিক দাবিগুলোর সঙ্গেই যুক্ত। টিউশন ফি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ নিয়ে অসন্তোষই আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে উঠে এসেছে।

এই অস্থিরতা হঠাৎ শুরু হয়নি। দেশটিতে আগের মাসগুলোতেও সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে। সেই ধারাবাহিক অসন্তোষের মধ্যেই এবারের আন্দোলন ষষ্ঠ দিনে পৌঁছেছে এবং সহিংস রূপ নিয়েছে।

তিরানার শহরকেন্দ্রে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ চলাচল ও নগরজীবনে প্রভাব পড়া স্বাভাবিক। পুলিশ স্টেশনে আগুন ও মন্ত্রণালয়ের প্রবেশপথ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা প্রশাসনের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

সরকার ও বিক্ষোভকারীদের অবস্থানের মধ্যে আপাতত কোনো সমঝোতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। একদিকে পদত্যাগের দাবি ও রাস্তার আন্দোলন, অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর দাবি প্রত্যাখ্যান ও বাইরের হাতের অভিযোগ — দুই পক্ষের ব্যবধান স্পষ্ট।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থা, টিউশন ফি ও দুর্নীতি — এই তিনটি ইস্যু যতদিন অমীমাংসিত থাকবে, বিক্ষোভের পেছনের ক্ষোভও ততদিন থেকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আন্দোলনকারীরা তাদের দাবিগুলোকে শুধু শিক্ষা খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সরকারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর প্রতিবাদে রূপ দিয়েছেন।

এখন দেখার বিষয়, ষষ্ঠ দিনের সহিংসতার পর আন্দোলন কোন দিকে যায় এবং সরকার সংলাপ বা অন্য কোনো পথে পরিস্থিতি শান্ত করার উদ্যোগ নেয় কি না। তিরানার রাস্তায় পরবর্তী দিনগুলোর চিত্রই বলে দেবে, এই অস্থিরতা আরও বাড়বে নাকি ধীরে ধীরে স্তিমিত হবে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — জাকির হোসেন, সম্ভাব্য ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী, ৭ নং ওয়ার্ড, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন

ইউরোপ বিভাগের আরও খবর

ইউরোপ৫ মিনিটে পড়ুন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগপত্র ফিরিয়ে দিলেন ম্যাক্রোঁ, সহিংসতায় কাঁপছে ফ্রান্সের বাজারও

ফ্রান্সজুড়ে দাঙ্গা ও সহিংসতার মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন নুনিয়াজের পদত্যাগপত্র প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। সংকট সামলাতে ন…

ইউরোপ৫ মিনিটে পড়ুন

দাঙ্গা ও লুটপাটে তছনছ ফ্রান্স, ‘শান্তি ও শৃঙ্খলা’ ফেরানোর আহ্বান প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁর

ফ্রান্সজুড়ে বড় ধরনের বিক্ষোভ দাঙ্গা ও লুটপাটে রূপ নেওয়ার পর দেশটিতে ‘শান্তি ও শৃঙ্খলা’ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রঁ…