কুষ্টিয়ায় লালন আখড়াবাড়ির ফটকে ‘টাইম বোমা’, ঢাকার দল এসে নিষ্ক্রিয় করল
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় ফকির লালন সাঁইয়ের আখড়াবাড়ি থেকে ‘টাইম বোমা’সদৃশ বস্তু উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রধান ফটকের কাছ থেকে উদ্ধার করা বস্তুটি সোমবার সকালে ঢাকা থেকে আসা বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল পরীক্ষা করে নিষ্ক্রিয় করে। এ ঘটনায় আখড়াবাড়ির নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
ঘটনার শুরু রবিবার মধ্যরাতে। আখড়াবাড়ির প্রধান ফটকের পাশে নারিকেল গাছের নিচে একটি মিষ্টির সাদা প্যাকেটে মোড়ানো বস্তু পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় এক বাউল। তিনি বিষয়টি পুলিশকে জানান। সন্দেহজনক বস্তুর খবরে রাতেই তৎপর হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
খবর পাওয়ার পর অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে মাজার এলাকা ফাঁকা করে দেওয়া হয়। মাজারে প্রবেশের মূল ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে পুলিশ, র্যাব ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। রাতভর এলাকাটি ঘিরে সতর্ক অবস্থান নেওয়া হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মধ্যরাতে মাজার কমপ্লেক্সের মূল প্রবেশদ্বারের পাশে সাদা ব্যাগে মোড়ানো সন্দেহজনক বস্তু পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় সাধুরা। তারা সেখানে দায়িত্বে থাকা কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ জামাল উদ্দিনকে বিষয়টি জানান।
ঘটনাস্থলে গিয়ে ওসি ব্যাগের ভেতরে পেট্রোল ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের মতো কিছু দেখতে পান। এরপর বিষয়টি পুলিশ সুপারকে জানানো হয়। পরে মাজার এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করে ব্যাগটি পাহারায় রাখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, যাতে কেউ বস্তুটির কাছে যেতে না পারে।
পুলিশ সুপারের মাধ্যমে ঢাকায় যোগাযোগ করা হলে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের চার সদস্যের একটি দল সোমবার সকালে কুষ্টিয়ায় পৌঁছায়। তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ব্যাগের ভেতরে দুটি বোতলভর্তি পেট্রোল ও একটি টাইম বোমা থাকার বিষয়টি শনাক্ত করে। এরপর বস্তুটিকে নিষ্ক্রিয় করা হয়।
নিষ্ক্রিয় করার সময় বস্তুটিকে বালতির মধ্যে রেখে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সংশ্লিষ্ট ছবি ও বর্ণনায় সেই সতর্ক প্রক্রিয়ার চিত্র উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞ দলের হস্তক্ষেপের পরই এলাকার তাৎক্ষণিক ঝুঁকি কাটে।
কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, রাতে সাধুরা পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা একটি ব্যাগ দেখে তাকে জানান। তিনি তাৎক্ষণিক সেখানে গিয়ে ব্যাগ দেখে পুলিশ সুপারকে জানান। পরে ঢাকা থেকে চার সদস্যের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট সকালে এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এবং তাদের মাধ্যমে জানা যায়, সেটি টাইম বোমা।
ওসি আরও বলেন, এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। খুব দ্রুতই তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে। অর্থাৎ বস্তুটি নিষ্ক্রিয় করার পাশাপাশি কে বা কারা এটি ফটকের পাশে রেখে গেল, তা খুঁজে বের করাই এখন তদন্তের মূল লক্ষ্য।
লালন আখড়াবাড়ি দেশের একটি পরিচিত সাংস্কৃতিক ও সাধনাস্থল, যেখানে সাধু-বাউলসহ অনেক মানুষের যাতায়াত থাকে। এমন স্থানের প্রধান ফটকের পাশে এ ধরনের বস্তু পাওয়া যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানো স্বাভাবিক। মাজার এলাকা ফাঁকা করা ও ফটক বন্ধের সিদ্ধান্ত সেই ঝুঁকি বিবেচনাতেই নেওয়া হয়।
ঘটনার পর আখড়াবাড়ির নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতদিন জোরদার থাকবে বা প্রবেশে কোনো বিধিনিষেধ থাকবে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
এখন সবার নজর তদন্তের দিকে। বস্তুটি কারা, কী উদ্দেশ্যে রেখেছিল এবং এর সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত আছে কি না — এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেলেই ঘটনার পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট হবে। আপাতত টাইম বোমাটি নিষ্ক্রিয় হওয়ায় বড় ধরনের বিপদ এড়ানো গেছে।




