কৃষির সমস্যা সমাধানে উদ্ভাবনী ধারণায় জাতীয় চ্যাম্পিয়ন শেকৃবির তিন শিক্ষার্থী
কৃষি খাতের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপন করে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা ‘আইডিয়া ফেস্ট-২০২৫’-এ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি শিক্ষার্থী দল। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থী এই সাফল্য পেয়েছেন।
চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্যরা হলেন দলনেতা মারুফ মোস্তফা মুনিম, মো. মোহাইমিনুল ইসলাম ও মো. রিয়াদ মিয়া। মুনিম কৃষি অনুষদের ৭৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী, মোহাইমিনুল কৃষি অর্থনীতির ৭৭তম ব্যাচের এবং রিয়াদ একই বিষয়ের ৮০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনজনের সম্মিলিত উপস্থাপনাই বিচারকদের সামনে শীর্ষ স্থান এনে দিয়েছে।
প্রতিযোগিতাটি শুরু হয়েছিল ২০২৫ সালের অক্টোবরে। এর চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয় ২০২৬ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেন, ফলে প্রতিযোগিতাটি ছিল জাতীয় পর্যায়ের বিস্তৃত অংশগ্রহণের।
প্রতিযোগিতার কাঠামো ছিল ধাপে ধাপে বাছাইয়ের। প্রাথমিক গ্রুপ পর্বের পর নির্বাচিত ১৮টি দল সেমিফাইনালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। সেখান থেকে বাছাই করা দলগুলো চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেয়। সেই দীর্ঘ বাছাই পেরিয়েই শেকৃবির দলটি চ্যাম্পিয়ন হয়।
বিজয়ীদের পুরস্কার দেওয়া হয় গত ১৮ অক্টোবর রাজধানীর শাহবাগে আবু সাঈদ কনভেনশন হলে। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিজয়ী দলের সদস্যদের পুরস্কৃত করা হয়। অনুষ্ঠানে পুরস্কার বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
অনুষ্ঠানে চ্যাম্পিয়ন দলের পক্ষে বক্তব্য দেন দলনেতা মারুফ মোস্তফা মুনিম। তিনি বাংলাদেশের কৃষি খাতে বিভিন্ন সমস্যা, কৃষকদের বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ এবং সেগুলো মোকাবিলায় তাদের দলের উদ্ভাবনী মডেলের সম্ভাবনা তুলে ধরেন। তার বক্তব্যে প্রতিযোগিতার ধারণাটি শুধু তত্ত্বে সীমাবদ্ধ না রেখে মাঠের সমস্যার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা ফুটে ওঠে।
মুনিম পাশাপাশি কৃষির টেকসই উন্নয়নে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা ও অবদান নিয়েও কথা বলেন। কৃষি শিক্ষা ও গবেষণায় বিশেষায়িত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এমন জাতীয় সাফল্য সেই ভূমিকারই একটি বাস্তব উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এই অর্জন কৃষি খাতের সমস্যা সমাধানে উদ্ভাবনী ধারণা ও গবেষণাভিত্তিক উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। কৃষকরা প্রতিদিন যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন, সেগুলোর সমাধানে শুধু প্রচলিত পদ্ধতি নয়, নতুন ধারণারও প্রয়োজন রয়েছে — এই বার্তাই প্রতিযোগিতার ফলাফলে প্রতিফলিত হয়েছে।
একই সঙ্গে এই সাফল্য কৃষির নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণদের অংশগ্রহণ এবং কার্যকর সমাধান উদ্ভাবনের সম্ভাবনাও সামনে এনেছে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা যে জাতীয় সমস্যা নিয়ে ভাবছেন এবং মডেল দাঁড় করাচ্ছেন, তা ভবিষ্যৎ কৃষি নেতৃত্বের জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়েছে। ভবিষ্যতেও তাদের উদ্ভাবনী কার্যক্রম ও গবেষণা অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠানিক এই স্বীকৃতি দলটির পরবর্তী কাজের জন্য উৎসাহ হিসেবে কাজ করবে।
প্রতিযোগিতার নামে ‘২০২৫’ থাকলেও এর চূড়ান্ত পর্ব ও পুরস্কার বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে ২০২৬ সালের অক্টোবরে। দীর্ঘ এই প্রক্রিয়ায় টিকে থেকে শীর্ষে পৌঁছানো দলটির ধারাবাহিক প্রস্তুতির পরিচয় দেয়।
এখন প্রশ্ন হলো, চ্যাম্পিয়ন হওয়া উদ্ভাবনী মডেলটি বাস্তবে কৃষকদের কাজে লাগানোর পথে কতটা এগোয়। প্রতিযোগিতার স্বীকৃতি একটি ধাপ; মাঠপর্যায়ে প্রয়োগ ও সম্প্রসারণই ঠিক করবে, এই ধারণা কৃষি খাতে কতটা স্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।





