ইমরানপুত্রদের সাক্ষাৎকার বিতর্কের পর ধারাভাষ্য প্যানেল থেকে বাদ আথারটন ও নাসের
ইমরান খানের দুই ছেলের সাক্ষাৎকার ঘিরে বিতর্কের পর এবার চলমান ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজের ধারাভাষ্য প্যানেলে জায়গা পাননি ইংল্যান্ডের সাবেক দুই অধিনায়ক মাইকেল আথারটন ও নাসের হুসেইন।
স্কাই স্পোর্টসে সম্প্রচারিত ইমরানের দুই ছেলে কাসিম ও সুলাইমান খানের সেই সাক্ষাৎকারে সম্পৃক্ত ছিলেন নাসের ও আথারটন। সেই সংযোগই এবার তাদের প্যানেল থেকে বাদ পড়ার কারণ হিসেবে সামনে এসেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেই আলোচিত সাক্ষাৎকারের জেরে নাসের ও আথারটনকে ছয় সদস্যের ধারাভাষ্য প্যানেলে রাখেনি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড বা পিসিবি।
গত আগস্টে লর্ডস টেস্ট চলাকালীন স্কাই স্পোর্টসে সম্প্রচারিত ওই সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে রীতিমতো হুলস্থুল পড়ে গিয়েছিল। সাক্ষাৎকারটি ক্রিকেটের গণ্ডি পেরিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কে রূপ নিয়েছিল।
সাক্ষাৎকারে কাসিম ও সুলাইমান অভিযোগ করেন, অবহেলা ও একঘরে করে রাখার মাধ্যমে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ তাদের বাবাকে প্রকাশ্যেই হত্যার চেষ্টা করছে।
কাসিমের দাবি, পাকিস্তানের কারাগারে বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক বন্দীর মৃত্যু হয়েছে। তার আশঙ্কা, সরকার ইমরান খানের ক্ষেত্রেও একই পরিণতি ঘটাতে চাইছে।
দুই ভাই আরও বলেন, ইমরান প্রতিদিন ২৩ ঘণ্টারও বেশি সময় একটি ছোট কক্ষে একা কাটান। তাদের অভিযোগ, কারিগরি কারণ দেখিয়ে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ তাদের ভিসা দিতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে পাকিস্তান সরকার। সরকারের দাবি, ইমরানের আত্মীয়স্বজন, আইনজীবী ও চিকিৎসকদের তার সঙ্গে দেখা করতে বাধা দেওয়া হয়নি।
সাক্ষাৎকারটি প্রচারের পর পিসিবি প্রতিবাদ জানায়। বিকেলের সেশনে খেলোয়াড়দের মাঠে না নামানোর হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি স্কাই স্পোর্টসের কাছে পিসিবি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানায় বলে খবর প্রকাশ হয়েছিল।
পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম পিটিভি অবশ্য দেশের অভ্যন্তরে সাক্ষাৎকারটি প্রচার করেনি। ফলে বিতর্কটি মূলত আন্তর্জাতিক পরিসরেই সীমাবদ্ধ থাকলেও তার রেশ এবার ধারাভাষ্য প্যানেলে এসে পড়েছে।
২০২৪ সালে ইংল্যান্ডের সর্বশেষ পাকিস্তান সফরের সময় ধারাভাষ্য প্যানেলে ছিলেন আথারটন ও নাসের দুজনই। এবার তাদের বাদ পড়ার সিদ্ধান্ত নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এদিকে, ২০২৩ সাল থেকে কারাবন্দি ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তিনি তার দৃষ্টিশক্তির প্রায় ৭৫ শতাংশ হারিয়েছেন।
ইমরানের চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবিতে পাকিস্তান সরকারের কাছে চিঠি লিখেছেন বেশ কয়েকজন সাবেক ক্রিকেটার। ধারাভাষ্য প্যানেলের এই সিদ্ধান্তের পর সিরিজের বাইরেও সেই বিতর্ক আরও কিছুদিন চলবে বলেই মনে হচ্ছে।




