রাতভর নাটকীয়তার পর সকালে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন
রাতভর নানা নাটকীয় ঘটনার পর অবশেষে সকালে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তাঁর এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে টানা কয়েক দিনের জল্পনা-কল্পনার এক প্রকার অবসান ঘটল।
অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে নেমে বিতর্কের জন্ম দেওয়ার পর থেকেই ইশরাক হোসেনকে ঘিরে আলোচনা তুঙ্গে ওঠে। সেই বিতর্কের ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন—এমন খবর গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
পদত্যাগের নির্দেশের খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে ‘সাধুবাদ যোগ্য’ বলে মন্তব্য করেন। রোববার (১৮ অক্টোবর) রাতে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই সাহসী সিদ্ধান্ত সাধুবাদ যোগ্য। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল এখান থেকে শিক্ষা নেবে সেই প্রত্যাশা করি।’
কিন্তু এরপরই ঘটনা নতুন মোড় নেয়। পদত্যাগের নির্দেশ পাওয়ার খবরকে গুজব বলে উড়িয়ে দেন ইশরাক হোসেন নিজেই। ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত তাঁর ক্ষেত্রে কার্যকর হলে তা সংবাদ সম্মেলন করে দ্রুত দেশবাসীকে জানানো হবে।
ইশরাক হোসেন তাঁর পোস্টে আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে মন্ত্রিপরিষদের যে কোনো সদস্যের প্রতি পদত্যাগ অথবা অন্য যে কোনো নির্দেশ আসার সঙ্গে সঙ্গে তা কার্যকর করা প্রথাগতভাবে বাধ্যতামূলক, অথবা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা কার্যকর হয়ে যায়। তাঁর ভাষায়, এই সংক্রান্ত কোনো তথ্য তৃতীয়, চতুর্থ অথবা আরও দূরবর্তী কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে যাচাই করার প্রয়োজনীয়তা নেই।
সেই অবস্থানের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন ঘুরতে থাকে—পদত্যাগের খবরটি তাহলে সত্যি নয়? কিন্তু রাত পেরিয়ে সকাল হতেই পাল্টে যায় চিত্র। রাতভর নাটকীয়তার শেষে সকালে ইশরাক হোসেন নিজেই পদত্যাগের ঘোষণা দেন বলে খবর প্রকাশিত হয়।
ফলে এক দিনের ব্যবধানে ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দেওয়া খবরটিই কার্যত পরিণতি পেল তাঁর নিজের ঘোষণার মধ্য দিয়ে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পালাবদল দেখিয়ে দিল বিষয়টি নিয়ে সরকারের ভেতরেও কতটা টানাপোড়েন চলছিল।
ইশরাক হোসেনের বিতর্কের সূত্রপাত অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে নামার ঘটনা থেকে। একজন প্রতিমন্ত্রীর এমন ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় আলোচনার জন্ম দেয়, যার পরিণতি হিসেবেই পদত্যাগের প্রশ্নটি সামনে আসে।
সারজিস আলমের মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া আসতে থাকে। কেউ প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান, আবার কেউ আনুষ্ঠানিক পরিণতি দেখার অপেক্ষার কথা বলেন। এখন ইশরাকের ঘোষণার পর সেই অপেক্ষার অনেকটাই শেষ হলো।
তবে পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া—পদত্যাগপত্র গৃহীত হওয়া এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন—সম্পন্ন হতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে। সেই প্রক্রিয়া শেষ হলেই মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে পরবর্তী কে আসছেন, সেই প্রশ্নটি সামনে আসবে।
সব মিলিয়ে অস্ত্র হাতে অভিযান, পদত্যাগের নির্দেশের খবর, গুজব বলে নাকচ, আর শেষে সকালের ঘোষণা—ইশরাক হোসেনকে ঘিরে এই পর্ব রাজনৈতিক অঙ্গনে জবাবদিহি ও শৃঙ্খলার প্রশ্নটিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
এখন নজর থাকবে সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও প্রজ্ঞাপনের দিকে। সেই সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব হস্তান্তর এবং নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তের নাম ঘোষণা নিয়েও আলোচনা চলবে বলে মনে করা হচ্ছে।




