তেল আবিব থেকে ভিয়েনাগামী ফ্লাইটে বোমা হুমকি, বুলগেরিয়ায় জরুরি অবতরণ
তেল আবিব থেকে ভিয়েনাগামী একটি ফ্লাইট বোমা হুমকির কারণে বুলগেরিয়ায় জরুরি অবতরণ করেছে। নির্ধারিত গন্তব্য অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় পৌঁছানোর আগেই মাঝপথে ফ্লাইটটির যাত্রা থামিয়ে দেওয়া হয়।
ফ্লাইটটি ইসরায়েলের তেল আবিব থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। উড্ডয়নের পর বোমা হুমকির খবর পাওয়ার প্রেক্ষিতেই জরুরি অবতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানা গেছে। আকাশপথে যেকোনো বোমা হুমকিকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়, হুমকিটি শেষ পর্যন্ত ভিত্তিহীন প্রমাণিত হলেও।
জরুরি অবতরণের জন্য বেছে নেওয়া হয় বুলগেরিয়াকে। তেল আবিব থেকে ভিয়েনার আকাশপথ ভূমধ্যসাগর ও বলকান অঞ্চলের ওপর দিয়ে যায়, সেই পথে বুলগেরিয়াই ছিল নিকটবর্তী নিরাপদ বিকল্পগুলোর একটি।
প্রাথমিক খবরে কোন বিমান সংস্থার ফ্লাইট ছিল এটি, ফ্লাইট নম্বর কী ছিল কিংবা বিমানটিতে কতজন যাত্রী ও ক্রু ছিলেন, তা জানানো হয়নি। হুমকিটি কীভাবে পাওয়া গেছে—ফোনে, বার্তায় নাকি অন্য কোনো মাধ্যমে—সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য প্রাথমিক প্রতিবেদনে নেই।
বোমা হুমকির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের স্বাভাবিক নিয়মই হলো, বিমানটিকে সবচেয়ে কাছের উপযুক্ত বিমানবন্দরে নামিয়ে যাত্রীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া এবং পুরো বিমানে তল্লাশি চালানো। বুলগেরিয়ায় অবতরণের পরও সেই নিরাপত্তা প্রক্রিয়াই অনুসরণ করার কথা।
তবে অবতরণের পর তল্লাশিতে কিছু পাওয়া গেছে কি না, কাউকে আটক বা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে কি না, প্রাথমিক প্রতিবেদনে সেসব তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পেলেই হুমকিটির প্রকৃতি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা মিলবে।
এমন ঘটনায় যাত্রীদের নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। নিরাপত্তা ছাড়পত্র না পাওয়া পর্যন্ত ফ্লাইটটির ভিয়েনার উদ্দেশে আবার উড্ডয়ন করা সম্ভব হয় না, ফলে যাত্রীদের অপেক্ষা কিংবা বিকল্প ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হয়।
ইউরোপমুখী আকাশপথে নিরাপত্তা সতর্কতা এমনিতেই কড়া। তার ওপর তেল আবিব থেকে ছাড়া ফ্লাইটগুলোর ক্ষেত্রে নিরাপত্তা যাচাই আরও কঠোরভাবে করা হয়ে থাকে। এই পটভূমিতে একটি বোমা হুমকি স্বাভাবিকভাবেই দ্রুত ও সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক প্রতিক্রিয়া ডেকে এনেছে।
ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দিল, একটি মাত্র হুমকির বার্তাই একটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের পুরো যাত্রাপথ বদলে দিতে পারে—গন্তব্য, সময়সূচি ও শত শত মানুষের পরিকল্পনা মুহূর্তে থমকে যেতে পারে নিরাপত্তার স্বার্থে।
এখন অপেক্ষা বুলগেরিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বিমান সংস্থার আনুষ্ঠানিক তথ্যের। ফ্লাইটটি শেষ পর্যন্ত ভিয়েনার পথে আবার রওনা হয়েছে কি না এবং হুমকিটির উৎস সম্পর্কে কোনো সূত্র মিলেছে কি না, পরবর্তী খবরেই তা জানা যাবে।





