কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে এক সেকেন্ডও গুরুত্বপূর্ণ: কী করবেন প্রথম কয়েক মিনিটে
হৃদ্যন্ত্রের সমস্যা যে কোনো সময় দেখা দিতে পারে। হঠাৎ বুকে ব্যথা বা চাপ অনুভব করার পর কেউ জ্ঞান হারালে পরিস্থিতি গুরুতর হতে পারে। এমন অবস্থায় আতঙ্কিত হয়ে সময় নষ্ট না করে দ্রুত সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হলে প্রতিটি মুহূর্তের গুরুত্ব অপরিসীম — এক সেকেন্ডও হতে পারে জীবন-মৃত্যুর পার্থক্য।
কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হলো এমন একটি জরুরি অবস্থা, যেখানে হৃদ্যন্ত্র হঠাৎ কার্যকরভাবে রক্ত পাম্প করা বন্ধ করে দেয়। এর ফলে মস্তিষ্কসহ শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোতে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত পৌঁছানো ব্যাহত হয়। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে রোগী অচেতন হয়ে পড়তে পারেন এবং তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
হার্ট অ্যাটাক ও কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট এক নয়। হার্ট অ্যাটাকে সাধারণত হৃদ্যন্ত্রের কোনো অংশে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। অন্যদিকে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে হৃদ্যন্ত্রের কার্যকরভাবে রক্ত পাম্প করার ক্ষমতা হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। হার্ট অ্যাটাক কখনো কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের কারণ হতে পারে।
কেউ হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়লে প্রথমে দেখুন, তিনি ডাকলে সাড়া দিচ্ছেন কি না এবং স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিচ্ছেন কি না। শ্বাস নিতে হাঁসফাঁস করা বা অনিয়মিতভাবে শ্বাস নেওয়াকে স্বাভাবিক শ্বাস বলে ধরে নেবেন না।
রোগী সাড়া না দিলে এবং স্বাভাবিকভাবে শ্বাস না নিলে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়েছে বলে সন্দেহ করুন। দ্রুত জরুরি চিকিৎসা পরিষেবায় ফোন করুন। বাংলাদেশে জরুরি সহায়তার জন্য ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা যায়। আশপাশে কেউ থাকলে তাঁকে অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করতে বা স্বয়ংক্রিয় বহিঃস্থ ডিফিব্রিলেটর (এইডি) খুঁজে আনতে বলুন।
প্রশিক্ষণ জানা থাকলে অবিলম্বে সিপিআর শুরু করুন। প্রাপ্তবয়স্ক রোগীর ক্ষেত্রে রোগীকে শক্ত ও সমতল জায়গায় চিত করে শোয়ান। বুকের মাঝখানে, বুকের হাড়ের ওপর এক হাতের তালুর গোড়া রাখুন। অন্য হাতটি তার ওপর রেখে আঙুল জড়িয়ে ধরুন। কনুই সোজা রেখে শরীরের ওজন ব্যবহার করে বুকের ওপর জোরে ও দ্রুত চাপ দিন — প্রতি মিনিটে ১০০ থেকে ১২০ বার। প্রাপ্তবয়স্কের ক্ষেত্রে বুক প্রায় ৫-৬ সেন্টিমিটার গভীর পর্যন্ত চাপুন এবং প্রতিবার চাপ দেওয়ার পর বুককে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে দিন।
প্রশিক্ষণ থাকলে ৩০ বার বুক চাপ দেওয়ার পর দুবার মুখে শ্বাস দেওয়ার পদ্ধতি অনুসরণ করা যায়। প্রশিক্ষণ না থাকলে বা মুখে শ্বাস দিতে অস্বস্তি বোধ করলে শুধু বুকে চাপ দিয়েই সিপিআর চালিয়ে যাওয়া যায় — চিকিৎসকদের মতে, কিছু না করার চেয়ে শুধু বুক চাপ দেওয়াও অনেক বেশি কার্যকর।
মনে রাখতে হবে, কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে মস্তিষ্কে অক্সিজেন পৌঁছানো বন্ধ হয়ে যায় — তাই প্রথম কয়েক মিনিটের পদক্ষেপই রোগীর বাঁচা-মরা নির্ধারণ করে। আশপাশের মানুষের দ্রুত সাড়াই হাসপাতালের চিকিৎসা শুরু হওয়ার আগের সবচেয়ে বড় চিকিৎসা।


