বিক্ষোভ চলাকালে ‘নো কিংস’-এর ইনস্টাগ্রাম বন্ধ, ক্ষমা চাইলেও ব্যাখ্যা দাবি আয়োজকদের
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রো-ডেমোক্রেসি বিক্ষোভ চলার মধ্যেই কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ হয়ে গিয়েছিল ‘নো কিংস’ আন্দোলনের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট। শনিবারের সর্বশেষ কর্মসূচি চলাকালে অ্যাকাউন্টটি অন্ধকার হয়ে যাওয়ায় সেন্সরশিপের আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়ে, আর আয়োজকেরা বলছেন — মেটা এখনো তাদের কাছে একটি ব্যাখ্যা পাওনা রেখেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লাখ লাখ আমেরিকানকে রাস্তায় নামানো দেশব্যাপী বিক্ষোভগুলোর পেছনের জোটের নেতারা এই ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করেছেন। শনিবারের বিক্ষোভগুলোর মূল লক্ষ্য ছিল আগাম ভোটদানে অংশগ্রহণ বাড়ানো; ঠিক সেই কর্মসূচি চলার সময়ই আন্দোলনের অ্যাকাউন্টটি কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ হয়ে যায়।
মেটা শনিবারই ক্ষমা চেয়েছে এবং জানিয়েছে, অ্যাকাউন্টটি সাময়িকভাবে স্থগিত হয়েছিল একটি স্বয়ংক্রিয় পদক্ষেপের কারণে — কোনো অ্যাকাউন্ট খুব বেশি ঘন ঘন পোস্ট, শেয়ার বা মন্তব্য করলে সেই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা সক্রিয় হয়।
মেটার মুখপাত্র অ্যান্ডি স্টোন সামাজিক মাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত, সেই স্বয়ংক্রিয় পদক্ষেপটি স্পষ্টতই ভুলবশত নেওয়া হয়েছিল। এখন সবকিছু যেভাবে চলার কথা সেভাবেই চলছে এবং আমরা আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী।’
কিন্তু আয়োজকেরা সেই বক্তব্যে সন্তুষ্ট নন। নো কিংস জোট রোববার তাদের ইনস্টাগ্রাম পেজে লিখেছে, ‘আমরা আমাদের অ্যাকাউন্টগুলোতে প্রবেশাধিকার ফিরে পেয়েছি, কিন্তু মেটা এখনো আমাদের কাছে একটি ব্যাখ্যা পাওনা রেখেছে। নির্বাচনের মাঝখানে ভোট নিয়ে যোগাযোগ সীমিত করে দেওয়া অগ্রহণযোগ্য।’
আয়োজকেরা মেটার ‘ঘন ঘন পোস্ট করা’র ব্যাখ্যা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষ্য, সদস্যরা ‘মাত্র হাতে গোনা কয়েকবার পোস্ট করেছেন এবং হাজার হাজার মানুষের কাছে লাইভ সম্প্রচার করেছেন’ — অর্থাৎ স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার মতো অতিরিক্ত তৎপরতা সেখানে ছিল না বলেই তাদের দাবি।
বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স রোববার এক্সে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, গণমাধ্যমের বিলিয়নিয়ার মালিকানার ফলেই নো কিংস অ্যাকাউন্টটি স্থগিত হয়েছিল।
কারিগরি এই বিঘ্ন সত্ত্বেও শনিবারের শত শত পরিকল্পিত কর্মসূচি চলমান ছিল। ওয়াশিংটনের লিংকন মেমোরিয়ালে একটি ব্যান্ড সংগীত পরিবেশন করে, আর টুপি ও কোট পরা কয়েক শ মানুষ সেখানে নাচছিলেন; অনেকের হাতে ছিল ‘আগাম ভোট দিন’ ও ‘আমার ভোট থেকে হাত সরান’ লেখা প্ল্যাকার্ড।
আটলান্টায় নগর কাউন্সিল সদস্য মাইকেল জুলিয়ান বন্ড সমবেত জনতাকে বলেন, ‘সংবিধান আপনাদের একটি ক্ষমতা দেয়, ঠিক তো? সেটি হলো ভোট দেওয়ার ক্ষমতা। আপনারা কি সেই ক্ষমতা ব্যবহার করবেন?’
লস অ্যাঞ্জেলেসের ডাউনটাউনের রাস্তায় প্রচণ্ড গরম থেকে বাঁচতে ছাতা হাতে মিছিল করেছেন বিক্ষোভকারীরা, একটি চলমান মঞ্চে তাদের পেছনে ছিল একটি ব্যান্ড; জনতা আইসিই বিলুপ্ত করা এবং ক্যালিফোর্নিয়ার বিলিয়নিয়ার কর পাস করার আহ্বানে উল্লাস করেছে।
নো কিংস আন্দোলনের শুরু গত গ্রীষ্মে — ফেডারেল ছাঁটাই, অভিবাসন প্রয়োগ এবং বিদেশে যুদ্ধসহ নানা বিষয়ে উদ্বেগের প্রতিক্রিয়ায়। এরপর থেকে বিক্ষোভগুলো নানা ইস্যু নিয়ে চলেছে এবং সাধারণত সেগুলোতে ট্রাম্পবিরোধী আবহই প্রবল থেকেছে।
এ বছর মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোটের দিকে মনোযোগ দেওয়ার পেছনে রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের ভোটাধিকার আইন দুর্বল করে দেওয়ার প্রসঙ্গ, সেই সঙ্গে ট্রাম্প আবারও ভিত্তিহীনভাবে নির্বাচনের ফল নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিশৃঙ্খলা ছড়াতে পারেন — এমন আশঙ্কাও।
আয়োজকেরা জানিয়েছেন, ‘নির্বাচনে নাশকতা’ ঘটলে সাড়া দেওয়ার জন্য স্বেচ্ছাসেবী সংগ্রহের পরিকল্পনাও ছিল শনিবারের কর্মসূচিগুলোতে — নো কিংস আয়োজনে সহায়তাকারী প্রগতিশীল সংগঠন ইনডিভিজিবলের সহ-নির্বাহী পরিচালক লিয়া গ্রিনবার্গ আগেই এমনটি জানিয়েছিলেন। সামনে এখন দেখার বিষয়, মেটা আয়োজকদের দাবি করা পূর্ণ ব্যাখ্যা দেয় কি না এবং নির্বাচনী মৌসুমে সামাজিক প্ল্যাটফর্মগুলোর এমন স্বয়ংক্রিয় পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক কতদূর গড়ায়।





