বঙ্গোপসাগরে নতুন লঘুচাপের আভাস, রাতের তাপমাত্রা কমতে পারে
বঙ্গোপসাগরের আন্দামান সাগর ও এর আশপাশের এলাকায় আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নতুন একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এই আভাস দিয়েছে। নতুন লঘুচাপটি তৈরি হলে এর প্রভাব পড়তে পারে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের আবহাওয়ায়।
রোববার (১৮ অক্টোবর) আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুকের দেওয়া পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বর্তমানে লঘুচাপের একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এই বর্ধিতাংশের প্রভাবে সাগর ও উপকূলে আবহাওয়ার ধীর পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ৯টা পর্যন্ত সারাদেশে আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। এ সময় আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে। তবে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
এর পরের ২৪ ঘণ্টায়ও আবহাওয়ার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। সারাদেশে আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে। দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে — ফলে রাত ও ভোরে হালকা শীতের আমেজ অনুভূত হতে পারে।
২১ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকার সম্ভাবনাই বেশি। এ সময় দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
২২ অক্টোবরের পূর্বাভাসেও একই চিত্র রয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও দেশের বাকি অংশে আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে এবং সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, অক্টোবরের এই সময়টা বর্ষা বিদায় ও শীতের আগমনের সন্ধিক্ষণ। এ সময় বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়া অস্বাভাবিক নয় এবং অতীতে এই মৌসুমে লঘুচাপ থেকে ঘূর্ণিঝড়ের উৎপত্তিও ঘটেছে। তবে এবারের সম্ভাব্য লঘুচাপটি নিয়ে আপাতত আতঙ্কের কোনো কারণ দেখছেন না তারা।
নতুন লঘুচাপ তৈরি হলে এর প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বিভাগের উপকূলীয় জেলাগুলোতে থেমে থেমে বৃষ্টি হতে পারে। তবে দেশের মধ্যাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলে এর বড় কোনো প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম বলেই পূর্বাভাসে ইঙ্গিত মিলেছে।
সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা কমতে থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা পড়ার প্রবণতা বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ বাড়ে, তাই শিশু ও বয়স্কদের বাড়তি সতর্কতা নেওয়া ভালো।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সাগরের পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। লঘুচাপ সৃষ্টি হলে বা পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটলে পরবর্তী পূর্বাভাসে তা জানিয়ে দেওয়া হবে।


